শুভেন্দুর চিঠিতেই ম্যাজিক? বাংলার রেলের মানচিত্রে আমূল বদল, একগুচ্ছ বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর!

লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে একগুচ্ছ বড়সড় ঘোষণা করল কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে রেলমন্ত্রক। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি রেললাইন ডাবলিংয়ের কাজ থেকে শুরু করে নতুন দূরপাল্লার ট্রেন এবং নতুন লাইনের ডিপিআর (DPR) তৈরি, সব মিলিয়ে বাংলার রেল মানচিত্রে এক বড়সড় বদল আসতে চলেছে। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্বয়ং চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে।

উত্তরবঙ্গের রেল পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে নিউ জলপাইগুড়ি–শিলিগুড়ি রুটের ৭.১৫ কিলোমিটার রেললাইন ডাবলিং বা দ্বৈতকরণের কাজের চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে উত্তরবঙ্গে ট্রেন চলাচলের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই কমবে লেট রানিংয়ের সমস্যা। রেলমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই অনুমোদনের চিঠিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

কলকাতা থেকে জয়পুর: চালু হচ্ছে নতুন এক্সপ্রেস
রাজ্যের রেলযাত্রীদের জন্য আরও একটি বড় সুখবর এনেছে রেলমন্ত্রক। কলকাতা থেকে খড়গপুর হয়ে রাজস্থানের জয়পুর পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ নতুন ট্রেন চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রেল সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই রেলের ট্র্যাকে নামতে চলেছে ১৮০৬১/১৮০৬২ সাঁতরাগাছি–খাতিপুরা এক্সপ্রেস। এই নতুন ট্রেনটি চালু হলে উৎসবের মরসুমে বা রাজস্থান ভ্রমণের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গসহ ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের যাত্রীদেরও দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে।

শালবনি–দিঘা নতুন লাইনের সবুজ সংকেত
দক্ষিণবঙ্গের পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির জন্য শালবনি থেকে পর্যটন কেন্দ্র দিঘা পর্যন্ত একটি নতুন রেললাইন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। জানা গেছে, এই ১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত রেললাইন নির্মাণের জন্য ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর (DPR) তৈরির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব চিঠি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে জানিয়েছেন, খুব দ্রুত এই প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হবে।

শুভেন্দুর আবেদনেই কি মিলল ছাড়পত্র?
ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তাঁর পূর্ববর্তী আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই রেলমন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গের এই ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলোতে গতি আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বঙ্গবাসীর সঙ্গে এই সুসংবাদ ভাগ করে নিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আমার আবেদনের ওপর ভিত্তি করে পশ্চিমবঙ্গে নতুন রেললাইন প্রকল্পগুলির নির্মাণ শুরু করার অনুমতি দিয়েছেন।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলায় বন্দে ভারত স্লিপার এবং অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের মতো একাধিক আধুনিক ট্রেন চালু করা হয়েছে। রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে রেলের আরও একাধিক বড় ঘোষণা আসতে পারে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকাঠামোকে অনেকটাই বদলে দেবে।