সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে আমজনতা! যোগী-মডেল এবার বাংলায়, শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’ নিয়ে নবান্নে তোলপাড়

শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যে শাসন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার উত্তরপ্রদেশ কিংবা মধ্যপ্রদেশের কায়দায় খোদ পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হতে চলেছে ‘জনতার দরবার’। যেখানে রাজ্যের সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে নিজেদের ক্ষোভ, অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

নবান্ন সূত্রে খবর, এই মেগা জনসংযোগ কর্মসূচির রূপরেখা তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই দরবারে উপস্থিত থেকে আমজনতার অভাব-অভিযোগ শুনবেন এবং সেই অনুযায়ী অন-স্পট বা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।

কেমন হবে শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’?
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত একদিন বা দু’দিন এই বিশেষ দরবার বসবে। নির্দিষ্ট দিনে টানা দুই ঘণ্টা করে সাধারণ মানুষের জন্য সময় বরাদ্দ রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে একা নন, মুখ্যমন্ত্রীর সাথে এই দরবারে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য প্রশাসনের এক বা একাধিক শীর্ষ সারির উচ্চপদস্থ আধিকারিক। এর ফলে কোনো নাগরিক যদি কোনো সরকারি পরিষেবা বা দুর্নীতির বিষয়ে নালিশ জানান, তবে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিককে ডেকে তড়িঘড়ি সেই জট খোলার নির্দেশ দিতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়, তার একটি নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে নবান্ন।

যোগী-মডেল এবার বাংলায়
জনগণের দুয়ারে গিয়ে তাঁদের সমস্যার সমাধান করার এই কৌশল বিজেপির রাজ্যগুলোতে অত্যন্ত সফল ও জনপ্রিয়। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘জনতার দরবার’ সারা দেশে বহুল চর্চিত। একইভাবে মধ্যপ্রদেশেও নিয়মিত এই কর্মসূচি চলে। এমনকি ওড়িশার নতুন বিজেপি সরকারও ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই ‘জনশুনানি’ নামে একই ধরনের জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এবার সেই একই পথ অনুসরণ করে বাংলায় স্বচ্ছ ও গতিশীল প্রশাসন উপহার দিতে কোমর বাঁধছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

প্রশাসন সূত্রের খবর, বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পরিকল্পনা স্তরে রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নবান্নের তরফে এই ‘জনতার দরবার’-এর আনুষ্ঠানিক দিনক্ষণ, সময় এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের নিয়মাবলী বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী যেমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে চাইছেন, তেমনই সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে প্রশাসনের ওপর তাঁদের আস্থা বাড়াতে চাইছেন।