CBSE-র নতুন নিয়মে মাথায় হাত বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবীদের! JEE পাশ করেও আইআইটি স্বপ্নভঙ্গ হাজার হাজার ছাত্রের

গত ১৩ মে প্রকাশিত হয়েছে সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল। কিন্তু এবারের রেজাল্ট সামনে আসতেই প্রকাশ্য এল এক চরম বাস্তব। সিবিএসই-র নতুন ইভ্যালুয়েশন বা খাতা দেখার পদ্ধতির জেরে সবথেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিজ্ঞান (Science) বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা। বোর্ডের চালু করা ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (OSM) এবং অত্যন্ত কড়া ‘স্টেপ-মার্কিং’ নিয়মের জেরে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরই এবার স্বপ্নভঙ্গের দোরগোড়ায়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক শিক্ষার্থী সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স বা JEE Main পরীক্ষায় দুর্দান্ত র‍্যাঙ্ক করা সত্ত্বেও, বোর্ড পরীক্ষায় ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ নম্বর তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে আইআইটি (IIT), এনআইটি (NIT) এবং আইআইআইটি (IIIT)-র মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তির যোগ্যতা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে শত শত পড়ুয়ার।

বিজ্ঞানে ১০০ পাওয়ার সংখ্যায় রেকর্ড পতন!
এবারের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান (Physics) এবং রসায়নের (Chemistry) মতো মূল বিজ্ঞানের বিষয়গুলিতে ১০০-তে ১০০ পাওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা একধাক্কায় বিপুল কমে গিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

গণিত: ১০০ পেয়েছেন মাত্র ১,২৮৩ জন শিক্ষার্থী।

রসায়ন: পূর্ণ নম্বর পেয়েছেন ১,০৬১ জন।

পদার্থবিজ্ঞান: গোটা দেশে এই কঠিন বিষয়ে ১০০-তে ১০০ পেয়েছেন মাত্র ৯৬ জন পরীক্ষার্থী!

অথচ এর বিপরীতে চিত্রকলা (Painting), মনোবিজ্ঞান (Psychology) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর মতো অপ্রথাগত বিষয়গুলিতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী অনায়াসে ১০০ নম্বর তুলে নিয়েছেন।

কী এই ওএসএম (OSM) এবং স্টেপ-মার্কিং জুজু?
বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, এবার প্রায় ৯৮ লক্ষ উত্তরপত্র সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (OSM) সিস্টেমে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষকদের সামনে কম্পিউটারের স্ক্রিনে খাতা ভেসে ওঠে। সেখানে সিবিএসই-র দেওয়া একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল উত্তরপত্র পরিকল্পনা (Marking Scheme) থাকে।

পরীক্ষকেরা সেই নির্ধারিত ধাপ বা ‘স্টেপ’ মিলিয়ে নম্বর দিতে বাধ্য থাকেন। কোনো শিক্ষার্থী যদি নিজের বুদ্ধিতে সঠিক উত্তরে পৌঁছায়, কিন্তু লেখার ধরণ বা পদ্ধতি যদি বোর্ডের নির্ধারিত নিয়মের বাইরে যায়, তবে কম্পিউটারাইজড সিস্টেমে তার নম্বর কেটে নেওয়া হচ্ছে।

কেন কোপ পড়ল বিজ্ঞানের পড়ুয়াদের ওপর?
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজ্ঞান বিষয়ের খাতা দেখার সময় এবার উত্তর সমাধানের প্রক্রিয়া ও প্রতিটি লাইনের বা ধাপের ওপর অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হয়েছিল। অনলাইন মূল্যায়নের কারণে পরীক্ষকদের ওপরেও ভুল এড়ানোর একটা বাড়তি মানসিক চাপ থাকে, যার খেসারত দিতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের।

এর পাশাপাশি আরও একটি বড় কারণ হলো ‘ডামি স্কুল’ এবং ‘কোচিং কালচার’। জেইই (JEE) বা নিট (NEET)-এর মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীরা মূলত অবজেক্টিভ বা MCQ ভিত্তিক পড়াশোনা করে। ফলে খাতায় কলমে বিশদে উত্তর গুছিয়ে লেখার অভ্যাস তাদের তৈরি হয় না। আর এই দুর্বলতাই এবার বোর্ডের মূল্যায়নে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নম্বর বাড়াতে ১৮ মে থেকে শুরু হচ্ছে বড় সুযোগ
যেসব ছাত্রছাত্রী নিজেদের প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট নন বা মনে করছেন খাতা দেখায় ভুল হয়েছে, তাঁদের জন্য আগামী ১৮ মে থেকে শুরু হচ্ছে পুনর্মূল্যায়ন বা স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া। সম্পূর্ণ অনলাইনে এই আবেদন করা যাবে। এর অধীনে শিক্ষার্থীরা মূলত তিনটি সুবিধা পাবেন:
১. প্রাপ্ত নম্বরের পুনঃনিরীক্ষা বা টোটালিং যাচাই।
২. নিজেদের স্ক্যান করা উত্তরপত্রের ডিজিটাল কপি ডাউনলোড।
৩. নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের উত্তর পুনরায় মূল্যায়নের জন্য আবেদন।

বোর্ডের এই ডিজিটাল কড়াকড়ির পর কতজন শিক্ষার্থীর নম্বর পুনর্মূল্যায়নে বাড়ে, এখন সেটাই দেখার।