ফেলে দেওয়ার আগে দু’বার ভাবুন! পুরনো স্টিলের গ্লাস দিয়েই বদলে যাবে অন্দরমহলের ভোল, রইল সহজ টিপস

আমাদের প্রত্যেকের রান্নাঘরের কোণায় এমন কিছু পুরনো স্টিলের গ্লাস থাকে, যা বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকে। হয়তো সেগুলোর চাকচিক্য কমেছে কিংবা তাতে কিছু দাগ পড়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, সামান্য সৃজনশীলতা আর কিছু শৈল্পিক ছোঁয়ায় এই সাধারণ গ্লাসগুলোই হয়ে উঠতে পারে আপনার ড্রয়িং রুমের প্রধান আকর্ষণ? আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানাব কীভাবে খুব সহজেই এই গ্লাসগুলো দিয়ে আপনার ঘরকে দিতে পারেন এক আধুনিক ও নান্দনিক রূপ।

১. আধুনিক ইনডোর প্ল্যান্টার:
পুরনো স্টিল গ্লাসগুলোকে ছোট ছোট সাকুলেন্ট বা মানি প্ল্যান্টের জন্য ‘মিনি প্ল্যান্টার’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এর ধাতব ফিনিশ আপনার ঘরে একটি ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল লুক’ তৈরি করবে। গ্লাসগুলোকে ইচ্ছেমতো রঙ করে বা পাটের দড়ি দিয়ে মুড়িয়ে জানালার পাশে সাজিয়ে রাখলে তার সৌন্দর্য কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

২. মায়াবী মোমবাতিদানি:
উৎসবের সন্ধ্যায় ঘরকে আলোয় ভরিয়ে তুলতে এই গ্লাসগুলো চমৎকার মোমবাতিদানি হিসেবে কাজ করে। গ্লাসের গায়ে ছোট ছোট নকশা বা ছিদ্র করে নিলে ভেতর থেকে মোমবাতির আলো প্রতিফলিত হয়ে এক অদ্ভুত মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। ডাইনিং টেবিল বা শোবার ঘরের কোণায় এটি আভিজাত্যের ছোঁয়া যোগ করবে।

৩. নান্দনিক ডেস্ক অর্গানাইজার:
অগোছালো পড়ার টেবিল বা অফিসের ডেস্ক গোছাতে এই গ্লাসগুলোর জুড়ি নেই। কলম, পেন্সিল বা কাঁচি আলাদা আলাদা গ্লাসে সাজিয়ে রাখলে ঘর দেখতে বেশ পরিপাটি লাগে। একটি কাঠের ট্রে-র ওপর কয়েকটি রঙিন গ্লাস সাজিয়ে রাখলে সেটি একটি চমৎকার ডেস্ক সেটে পরিণত হবে।

৪. ঝুলন্ত জানালার সজ্জা:
পুরনো গ্লাসে রঙিন সুতো বা শিকল লাগিয়ে সেগুলোকে বারান্দা বা জানালার পাশে ঝুলিয়ে দিতে পারেন। গ্লাসের ভেতরে আর্টিফিশিয়াল ফুল বা ছোট ফেয়ারি লাইট রাখলে তৈরি হয় এক অপূর্ব ঝুলন্ত সজ্জা। মৃদু বাতাসে এগুলো যখন একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাবে, তখন তৈরি হওয়া টুংটাং শব্দ আপনার মন ভালো করে দেবে।

৫. বাথরুম ও ডাইনিং সজ্জা:
জলরোধী হওয়ায় বাথরুমে টুথব্রাশ বা চিরুনি রাখার জন্য স্টিল গ্লাস একদম উপযুক্ত। এছাড়া ডাইনিং টেবিলের জন্য খুব দামী ফুলদানি না কিনে পুরনো গ্লাসগুলোকেই অ্যাক্রাইলিক রঙে রাঙিয়ে বা মিরর ওয়ার্ক করে ব্যবহার করতে পারেন। সতেজ ফুলের সঙ্গে ধাতব পাত্রের এই বৈপরীত্য যে কারও নজর কাড়তে বাধ্য।

অল্প পরিশ্রমে এবং প্রায় শূন্য খরচে এমন সৃজনশীল অন্দরসজ্জা আপনার ব্যক্তিত্ব ও উন্নত রুচির পরিচয় বহন করবে। আজই তবে নতুনের সন্ধানে রান্নাঘরের পুরনো তাকটি একবার খুঁজে দেখবেন নাকি?