‘অযথা বিষয় নিয়ে ভাবার সময় নেই’, হাইকোর্টে মমতার সওয়াল শুনেই কেন এমন বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

বুধবার রাজভবনে শপথ গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার সকালেই অ্যাকশন মোডে ধরা দিলেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে প্রাক্তন ও বর্তমানের সংঘাত তুঙ্গে, ঠিক তখনই কাজের ব্যস্ততা বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার সকালে ঘড়ির কাঁটা দশটা ছোঁয়ার আগেই বিধানসভায় পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তাঁর গলায় ছিল স্পষ্ট বার্তা— “অযথা বিষয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই।”

হাইকোর্টে লড়াকু মেজাজে মমতা
এদিন সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল কলকাতা হাইকোর্টের দিকে। ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে আইনি লড়াইয়ে নামেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে খোদ এজলাসে সওয়াল করতে দেখা যায় তাঁকে। পরণে ছিল আইনজীবীর পোশাক। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘বুলডোজার’ চালানো এবং দলীয় কর্মীদের হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি। যদিও আদালত চত্বরেই তাঁকে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ‘অহেতুক বিষয়’
বিধানসভায় ঢোকার সময় সাংবাদিকরা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতার আদালতে উপস্থিতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চান। উত্তরে এক মুহূর্ত দেরি না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার হাতে প্রচুর কাজ আছে। অযথা বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় আমার নেই। সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই মুহূর্তে আমি রাজ্যের কাজ নিয়েই ভাবিত।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আইনি লড়াইকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ।

কর্মব্যস্ত বৃহস্পতিবার
এদিন বিধানসভায় স্পিকার হিসেবে বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বোসের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনার কথা জানান শুভেন্দু। তবে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি মানবিক দিকটিও নজর কেড়েছে তাঁর। এদিনই প্রকাশিত হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধানসভার কাজের ফাঁকেই তিনি কৃতি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলবেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানাবেন।

শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর এই কর্মতৎপরতা বুঝিয়ে দিচ্ছে, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল এবং গতি আনতে তিনি বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে মমতার আইনি চ্যালেঞ্জ এবং শুভেন্দুর ‘কাজের পাহাড়’— এই দুই বিপরীত মেরুর অবস্থানে এখন সরগরম বাংলার রাজনীতি।