“ঝরল ৫৪টি প্রাণ, ভেঙে পড়ল ঘরবাড়ি”—প্রকৃতির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত উত্তর প্রদেশ

প্রকৃতির রুদ্ররোষে কার্যত তছনছ উত্তরপ্রদেশ। বুধবার রাজ্যে আছড়ে পড়া প্রবল ধুলোর ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঝড়ের দাপটে উপড়ে পড়েছে কয়েক হাজার গাছ, ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়ি। বিস্তীর্ণ এলাকা এখন বিদ্যুৎহীন, যোগাযোগ ব্যবস্থাও কার্যত বিপর্যস্ত।

প্রয়াগরাজে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

ঝড়ের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখা গিয়েছে প্রয়াগরাজে। সেখানে ধুলোর ঝড়ে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, হান্ডিয়ায় ৭ জন, ফুলপুরে ৪ জন, সোরাঁওয়ে ৩ জন এবং মেজায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের বড় বড় রাস্তাগুলোতে শতাব্দীপ্রাচীন গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পুলিশ লাইন্সের ২ নম্বর গেটের কাছে একটি বিশালাকায় নিমগাছ একটি মোটরসাইকেল ও ফরচুনার গাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে।

নাবালিকা ও নারী-সহ মৃত্যুমিছিল বদায়ুঁতে

পিটিআই সূত্রে খবর, বদায়ুঁ জেলাতেও ঝড়ের তাণ্ডবে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুই নাবালিকা রয়েছে। বিসৌলি থানার অন্তর্গত একটি কুঁড়েঘরে আশ্রয় নিতে গিয়ে কাদামাটির দেওয়াল ধসে মৃত্যু হয় মৌসুমি (১০) ও রজনী (৯) নামে দুই কিশোরীর। অন্যদিকে, একটি টিউবওয়েল ঘরে আশ্রয় নিয়ে গাছ চাপা পড়ে লক্ষ্মী নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। বিসৌলি রোড ও সাহুকারা এলাকাতেও গাছ চাপা পড়ে চালকসহ দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বিপর্যস্ত উদ্ধারকাজ, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ

অতিরিক্ত জেলাশাসক কুনওয়ার বীরেন্দ্র কুমার মৌর্য জানিয়েছেন, প্রবল ঝড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং টাওয়ার ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। প্রয়াগরাজসহ একাধিক জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস্তা থেকে বিশালাকায় গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে নামানো হয়েছে পুরসভা ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীদের।

আবহাওয়ার বড় আপডেট

উত্তরপ্রদেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণবঙ্গসহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতেও ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। ঘূর্ণাবর্ত ও শক্তিশালী কালবৈশাখীর জেরে আগামী কয়েকদিন উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ সরকার এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে যেভাবে কয়েক মিনিটের ঝড়ে একের পর এক প্রাণ ঝরল, তাতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন এখন কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে।