‘আইনজীবী’ মমতাকে দেখে ‘চোর চোর’ স্লোগান হাইকোর্টে, ঘটনায় তুমুল শোরগোল

বৃহস্পতিবার এক বেনজির নাটকের সাক্ষী থাকল কলকাতা হাইকোর্ট। কয়েক দশক পর আইনজীবীর পোশাকে আদালতে সওয়াল করতে এসে একদিকে যেমন আবেগপ্রবণ হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেমনই শুনানি শেষে তাঁকে ঘিরে হওয়া বিক্ষোভ ও স্লোগান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল আদালত চত্বর। পুলিশি পাহারায় কোনোক্রমে ধস্তাধস্তি এড়িয়ে আদালত ছাড়তে হল তাঁকে।
‘আইনজীবী হিসেবে এটাই আমার প্রথম মামলা’
এদিন সকালেই প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে কালো কোট আর ব্যান্ডের পোশাকে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় সওয়াল করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বিচারব্যবস্থাকে আমার বিনীত শ্রদ্ধা। তবে আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে এটাই আমার প্রথম মামলা।” সওয়াল চলাকালীন তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বর্তমানে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি চলছে। শিশু, মহিলা থেকে শুরু করে সংখ্যালঘু— কাউকেই রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। ঘরছাড়া ও আক্রান্ত ১০ জনের একটি তালিকাও আদালতের কাছে জমা দেন মমতা।
পুলিশের পাল্টা যুক্তি ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা
অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের আইনজীবী আদালতে জানান যে অভিযোগগুলো অনেক বেশি সাধারণ প্রকৃতির। তাঁর যুক্তি, “এত বড় আকারের হিংসা হলে তা সংবাদমাধ্যমে প্রতিফলিত হতো।” নিউ মার্কেট এলাকায় একটি গোলমালের জেরে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ঠিকই, তবে সেটিকে ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’ বলা যাবে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। দুপক্ষের বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি জানান, সব তথ্য খতিয়ে দেখে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এজলাসের বাইরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
আসল নাটক শুরু হয় শুনানি শেষ হওয়ার পর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এজলাস থেকে বেরিয়ে আসতেই আদালত চত্বরে জমায়েত হওয়া কিছু মানুষ ও আইনজীবী তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে মমতা ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করে ফের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হন।
পরবর্তীতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কর্মীদের ঘেরাটোপে মমতাকে গাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। স্লোগান ও বিক্ষোভের জেরে এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। কোনোক্রমে বিক্ষোভকারীদের ভিড় ঠেলে নিজের গাড়িতে উঠে আদালত চত্বর ছাড়েন তৃণমূল নেত্রী।
মুখ খুললেন না শুভেন্দু
হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল এবং পরবর্তী বিক্ষোভ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে এড়িয়ে যান। শুভেন্দু বলেন, “আমার অনেক কাজ আছে। এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো সময় বা মানসিকতা— কোনোটিই আমার নেই।”
রাজ্যের ইতিহাসে একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আইনজীবীর পোশাকে সওয়াল করছেন এবং আদালত চত্বরেই বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন— এমন ঘটনা আগে বিশেষ দেখা যায়নি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের নির্দেশের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।