রাজপথের লড়াকু নেত্রী এবার কালো কোটে! হাইকোর্টে ঢুকতেই শোরগোল, মমতার ‘নতুন ইনিংস’ কি শুভেন্দুর জন্য অশনি সংকেত?

রাজনীতি আর প্রশাসন ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তবে ফিরে গেলেন তাঁর পুরনো ঠিকানায়? আজ সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন আইনজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। সাদা শাড়ির ওপর আইনজীবীদের কালো কোট এবং গাউন— দীর্ঘ কয়েক দশক পর সম্পূর্ণ নতুন অবতারে ধরা দিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

কেন আচমকা আদালতে?
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইকোর্টে আসার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের বিতর্কিত ‘বুলডোজার অ্যাকশন’। তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের পর যে বেআইনি কাঠামো ভাঙার কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার, তার প্রতিবাদে দায়ের হওয়া মামলার সওয়াল করতেই তিনি আজ আদালতে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী-নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।

পড়াশোনা থেকে প্র্যাকটিস: ফিরে দেখা
অনেকেই হয়তো ভুলে গিয়েছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন পেশাদার আইনজীবী। যোগমায়া দেবী কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তিনি কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে আইনের ডিগ্রি লাভ করেন। বার কাউন্সিলে তাঁর নাম নথিভুক্ত থাকলেও, রাজনীতির ব্যস্ততায় তিনি কোনোদিন নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে পারেননি। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আবারও পুরনো পেশায় ফিরতে চান। আজ তাঁর সেই ইচ্ছারই বাস্তব রূপ দেখল কলকাতা।

আবেদনকারী থেকে সওয়ালকারী
রাজনৈতিক জীবনে মমতা অসংখ্যবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সাধারণত তিনি থাকতেন আবেদনকারীর (Petitioner) ভূমিকায়। তবে এর আগে সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে আইনজীবীর পোশাকে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছিল। তৎকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে কমিশনের আইনজীবীদের সঙ্গে তাঁর সেই লড়াই আজও চর্চায় থাকে। আজ কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনেও তাঁকে নিয়ে খুশির হাওয়া।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনে নেই বলে মমতা বসে থাকতে রাজি নন। রাজ্য সরকারের বুলডোজার নীতির বিরুদ্ধে এবার রাজপথের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়েও সরাসরি অংশ নিতে চলেছেন তিনি। প্রাক্তন প্রশাসনিক প্রধান যখন খোদ আইনজীবীর পোশাকে এজলাসে দাঁড়ান, তখন সেই মামলার গুরুত্ব ও চাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে যায়, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, আইনজীবীর এজলাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘সেকেন্ড ইনিংস’ রাজ্যের রাজনীতিতে কী নতুন মোড় নিয়ে আসে।