তিলজলায় ২ জনের মৃত্যুর পর রণমূর্তি শুভেন্দু! সাসপেন্ড দমকলের ওসি, গুদাম গুঁড়িয়ে দিতে হাজির বুলডোজার!

তিলজলার বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রগতি ময়দান ফায়ার স্টেশনের ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করা হল। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সাসপেন্ড দমকলের স্টেশন অফিসার
দমকল দফতর সূত্রে খবর, তিলজলার ওই গুদামে অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে এবং নিয়মিত পরিদর্শনে চরম গাফিলতি ছিল। সেই অভিযোগেই স্টেশন অফিসার গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সাসপেনশন চলাকালীন তিনি ফায়ার হেডকোয়ার্টারেও ঢুকতে পারবেন না। তাঁর বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা: ‘অশনি সংকেত’
গতকাল এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তিলজলার ঘটনায় ফার্স্ট কমিটির যে রিপোর্ট এসেছে, তা আমাদের জন্য একটি অশনি সংকেত। ওই কারখানার কোনো বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান:
ইতিমধ্যেই তিলজলা থানায় মামলা রুজু করে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই ধরণের সমস্ত অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ (CESC) বিচ্ছিন্ন করা হয়।
কলকাতা পুরসভাকে এই ধরণের বেআইনি কারখানার জলের লাইন কেটে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে বুলডোজার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল কাঠামো
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার বিকেলে তিলজলার ওই এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং পুরসভার বুলডোজার। কোনো বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই ওই কারখানা তৈরি করা হয়েছিল বলে প্রশাসনের দাবি। তড়িঘড়ি সেই অবৈধ অংশটি বুলডোজার দিয়ে ভাঙার কাজ শুরু হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে তিলজলার একটি গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেই আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয় দুই শ্রমিকের এবং গুরুতর আহত হন আরও চারজন। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ঘিঞ্জি এলাকার অবৈধ কারখানাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আদতে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।