বিশাল চমক! শপথ নিয়েই বেকারদের জন্য খুশির খবর শোনালেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ; কবে থেকে শুরু হবে নিয়োগ?

২০২৬-এর ঐতিহাসিক পালাবদলের পর বাংলার প্রশাসনিক অলিন্দে এখন সাজ সাজ রব। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পরপরই খড়গপুর সদরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষের রাজভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ছিল অন্যতম বড় চমক। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় দিলীপ ঘোষকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং প্রাণী সম্পদ বিকাশ ও কৃষি বিপণন দফতরের মতো জনমুখী বিভাগগুলোর দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে।
সাড়ে ৬ হাজার নিয়োগের ঘোষণা: বেকারদের বড় আশ্বাস
দফতর হাতে পাওয়ার আগেই কাজের গতি নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করাই তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য। দিলীপ ঘোষের কথায়, “আগের জমানায় প্যানেল তৈরি ছিল, কিন্তু তা রূপায়িত হয়নি। ফলে অনেক কাজ পড়ে আছে। আমি ক্যাবিনেটে মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কেন্দ্রের দেওয়া অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে বঞ্চিত কর্মীদের হাতে সুযোগ পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর নতুন সরকার।
“চার্জ নিলেই শুরু হবে লড়াই”, কড়া বার্তা দিলীপের
শপথ নেওয়ার পর খড়গপুর সদরের বিজেপি বিধায়ক তথা বর্তমান মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “শুরু হয়েছে মাত্র। সবে শপথ গ্রহণ হয়েছে। যতক্ষণ না চার্জ আমাদের হাতে আসছে, ততক্ষণ পুরোদমে কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। দফতর ভাগ হওয়ার কাজ চলছে, আরও অনেক মন্ত্রী শপথ নেবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি গুছিয়ে নিতে দু-চারদিন সময় লাগবে।” তবে কাজ শুরু করার আগেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, গ্রামোন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।
নবান্নে প্রথম বৈঠকেই বড় সিদ্ধান্ত
শনিবার শপথ গ্রহণের পর নবান্নে আয়োজিত প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পরই প্রত্যাশামতো পাঁচজন মন্ত্রীর দফতর বণ্টন করা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপ ঘোষকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নের মতো প্রভাবশালী দফতরের দায়িত্ব দিয়ে বাংলার গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক ও উন্নয়নের চাকা সচল রাখার কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে প্রাণী সম্পদ ও কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্বও তাঁর অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করেই দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রাজভবনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এক হালকা মূহুর্তের ও অবতারণা হয়। শপথবাক্য পাঠ করার সময় খানিকটা খেই হারিয়ে ফেলেন সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। ভুল করে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য নির্ধারিত আসনের দিকে এগিয়ে যান, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মৃদু হাসির রোল ওঠে। তবে সব মিলিয়ে নতুন সরকারের পথচলা যে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও উন্নয়নমুখী হতে চলেছে, দিলীপ ঘোষের প্রথম দিনের মন্তব্যেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল।