রেশনে আর মিলবে না আটার প্যাকেট! জুনের শুরুতেই নিয়মে বড় বদল, সরাসরি কড়া নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

রেশন বন্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের পাতে উন্নতমানের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের নতুন সরকার। এবার থেকে রেশনে আটার প্যাকেটের বদলে পুনরায় গম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ এবং বন্টন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখেই এই কড়া পদক্ষেপ।
বন্ধ হচ্ছে আটা সরবরাহ, ফিরছে গম
খাদ্য দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, রেশনে যে আটা সরবরাহ করা হয় তার গুণমান অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও পচা গম থেকে আটা তৈরির অভিযোগ, তো কোথাও কাটমানি ও সরবরাহে অনিয়ম। এই চক্র ভাঙতেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে নতুন করে আর কোনো আটা বরাদ্দ করা হবে না। উপভোক্তারা সরাসরি আটার বদলে গম পাবেন।
বর্তমান মজুত নিয়ে মন্ত্রীর নির্দেশ
তবে হুট করে সরবরাহ বন্ধ করে গ্রাহকদের সমস্যায় ফেলতে চায় না দফতর। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে যে সমস্ত রেশন ডিলারের কাছে আটার বরাদ্দ পৌঁছে গিয়েছে, উপভোক্তারা আপাতত সেটুকুই পাবেন। এছাড়া সরকারি গুদামে যেটুকু আটা মজুত আছে, তা বিলি হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে আর কোনো আটা সংগ্রহ বা মিলিং করবে না খাদ্য দফতর।
মিল মালিক ও ঠিকাদারদের তলব
সরবরাহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে শীঘ্রই আটা সরবরাহকারী মিল কর্তৃপক্ষ এবং ঠিকাদারদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন খাদ্যমন্ত্রী। সেখানে সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হবে যে, খাদ্যশস্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে কড়া নজরদারি চালানো হবে। কোনো অসাধু চক্রের প্রমাণ মিললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেশন ডিলারদের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি
খাদ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র আটায় সীমাবদ্ধ থাকেননি, চালের গুণমান নিয়েও বড় নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আগামী জুন মাস থেকে যদি কোনো রেশন দোকানে নিম্নমানের চাল দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে কোনো শোকজ নয়— সরাসরি সেই দোকানের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে এবং দোকানে ঝোলানো হবে তালা।
জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় কোটি কোটি মানুষের হাতে ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া হয়। পরিবহণ থেকে শুরু করে মিলিং এবং বন্টন— প্রতিটি ধাপে যেন সাধারণ মানুষ ঠকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অভিযানে নেমেছে খাদ্য দফতর।