ভবানীপুর না নন্দীগ্রাম, জেনেনিন কোন আসন ছাড়লেন CM শুভেন্দু অধিকারী

জল্পনার অবসান। নন্দীগ্রাম না ভবানীপুর— কোন আসনটি নিজের কাছে রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা চলছিল। বুধবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সেই ধোঁয়াশা নিজেই পরিষ্কার করে দিলেন তিনি। ভবানীপুর আসনটিই নিজের হাতে রাখছেন শুভেন্দু, আর নিয়ম মেনে ছেড়ে দিচ্ছেন নন্দীগ্রাম।
ভবানীপুরেই আস্থা শুভেন্দুর: বুধবার বিধানসভায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের কাছে বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার বাইরে এসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো ‘হাই-ভোল্টেজ’ ভবানীপুর আসনটিই তিনি ধরে রাখবেন। এই আসনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে আরও একবার মুখ্যমন্ত্রী পেল বাংলা।
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন ও উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা: নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, একসঙ্গে দুটি আসনের বিধায়ক থাকা সম্ভব নয়। শুভেন্দু ভবানীপুরকে বেছে নেওয়ায় এবার নন্দীগ্রাম আসনে উপনির্বাচন হওয়া নিশ্চিত। এখন প্রশ্ন উঠছে, নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিজেপির পরবর্তী প্রার্থী কে হবেন? যদিও এ বিষয়ে শুভেন্দু জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
শৃঙ্খলাপরায়ণ সৈনিকের বার্তা: নন্দীগ্রাম ছাড়ার ঘোষণা করলেও সেখানকার মানুষের প্রতি তাঁর কর্তব্যের কথা ভোলেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাপরায়ণ। দলের নেতারা যা বলবেন, তাই হবে। তবে আমি আমার দায়িত্ব থেকে সরে যাব না।” নন্দীগ্রামের বিজেপি কার্যালয়ে গিয়ে তিনি আগেভাগেই জানিয়েছিলেন যে, আসন ছাড়লেও এলাকার উন্নয়নের কাজ তিনি নিজে তদারকি করবেন।
এলাকাবাসীকে মেগা প্রতিশ্রুতি: নন্দীগ্রাম ও হলদিয়াবাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নের পরিকল্পনা শুনিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন:
-
হলদিয়া ও নন্দীগ্রামকে প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগতভাবে জুড়ে দেওয়া হবে।
-
গোকুলনগরের হাসপাতালকে এমনভাবে আধুনিকীকরণ করা হবে যাতে কাউকে চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও রেফার করতে না হয়।
-
আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, বিধায়ক না থাকলেও তিনি নিয়মিত নন্দীগ্রামে আসবেন এবং মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনবেন। নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক মাটি থেকে শুরু হওয়া লড়াইকে তিনি যে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান, আজকের ঘোষণায় তা স্পষ্ট।