রাজ্যজুড়ে জারি জরুরি ফতোয়া! মন্ত্রীদের গাড়িবহর অর্ধেক, বন্ধ হচ্ছে বিদেশ যাত্রা? তোলপাড় যোগীরাজ্যে

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবার কার্যত ‘যুদ্ধকালীন’ তৎপরতা শুরু করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কৃচ্ছ্রসাধন ও স্বনির্ভরতার আবেদনে সাড়া দিয়ে গোটা রাজ্যে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি। জ্বালানি সাশ্রয় থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস— প্রশাসনিক স্তর থেকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড়সড় বদল আনতে চলেছেন যোগী।
অর্ধেক হচ্ছে ভিআইপি কনভয়, জোর ভার্চুয়াল বৈঠকে:
প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকেই মিতব্যয়িতার পাঠ শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এবং রাজ্যের সমস্ত মন্ত্রী ও পদস্থ আধিকারিকদের গাড়ির বহর অবিলম্বে ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ রুখতেই এই কড়া পদক্ষেপ। শুধু তাই নয়, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। বড় শিল্প ও স্টার্টআপ সংস্থাগুলিকে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। সচিবালয়ের অর্ধেকের বেশি বৈঠক এখন থেকে সশরীরে না করে ভার্চুয়ালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সপ্তাহে একদিন ‘নো ভেহিকেল ডে’:
পরিবেশ রক্ষা ও জ্বালানি বাঁচাতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কদের সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে মেট্রো বা বাসের মতো গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও অফিসযাত্রীদের জন্য ‘কার পুলিং’ এবং সাইক্লিং-এ উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
রাত ১০টার পর নিভবে সাজসজ্জার আলো:
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাত ১০টার পর বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় সাজসজ্জার আলো ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি ও বেসরকারি ভবনেও বিদ্যুতের অপচয় রুখতে কড়া নজরদারি চালানো হবে। সৌরশক্তির প্রসার ঘটাতে ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ প্রকল্পের অধীনে রুফটপ সোলার প্যানেল বসানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য।
বিদেশ যাত্রা ও ডেস্টিনেশন ওয়েডিং-এ কোপ:
আগামী ছয় মাস নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ যাত্রা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। এমনকি ধনকুবেরদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বিদেশের বদলে উত্তরপ্রদেশের হেরিটেজ সাইট, দুর্গ বা ধর্মীয় স্থানগুলিকে বেছে নিন। রাজ্যের পর্যটন ও অর্থনীতি মজবুত করতে শুরু হচ্ছে ‘ভিজিট মাই স্টেট’ অভিযান। উপহার হিসেবে স্থানীয় হস্তশিল্প বা GI ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
তেল কম, শরীর ভালো! বিচিত্র দাওয়াই যোগীর:
মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশিকা কেবল প্রশাসনিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ নেই, ঢুকে পড়েছে রান্নাঘরেও। আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং জনস্বাস্থ্যের খাতিরে রাজ্যবাসীকে ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানোর আবেদন জানিয়েছেন তিনি। জেলখানা, পুলিশ মেস থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের হস্টেলে কম তেলে রান্না করা খাবার পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে কম তেলযুক্ত খাবার বা ‘হেলদি ডায়েট’ জনপ্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখেই উত্তরপ্রদেশকে স্বাবলম্বী করে তুলতে এই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ সাজিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ।