দেশ বাঁচাতে নিজের নিরাপত্তায় কোপ মোদীর! এক ধাক্কায় অর্ধেক হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়? তোলপাড় দেশ

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘর্ষের জেরে বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে এসেছে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। এর আঁচ এসে পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতেও। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দেশকে বাঁচাতে এবং বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে এবার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশবাসীকে সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি এবার নিজের কনভয়েই বড়সড় কাটছাঁট করলেন তিনি।
নিজের কনভয়ে ৫০ শতাংশ গাড়ি কমানোর নির্দেশ
সরকারি সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি-কে (SPG) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা অবিলম্বে ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। জ্বালানি বাঁচাতে এবং সরকারি খরচ কমাতে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাসংক্রান্ত ‘ব্লু বুক’-এর নিয়ম মেনে নিরাপত্তা বজায় রেখেই এই পরিবর্তন কার্যকর করছে এসপিজি।
ইলেকট্রিক গাড়িতে জোর, কিন্তু কেনা যাবে না নতুন গাড়ি
প্রধানমন্ত্রী কেবল কনভয়ের আকার ছোট করেননি, বরং কনভয়ে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) ব্যবহার বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন। তবে মিতব্যয়িতার চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের জন্য নতুন করে কোনো বিলাসবহুল গাড়ি কেনা যাবে না। বর্তমান সম্পদ ব্যবহার করেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।
সোনা কেনা ও বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
উল্লেখ্য, এর আগেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা কেনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আর্জি জানিয়েছিলেন। তেলের ব্যবহার কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে কার পুলিং, ট্রেন ও মেট্রোর মতো গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। এবার নিজে সেই পথে হেঁটে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী ম্যাজিক: দিল্লিতেও পড়ল প্রভাব
প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যগুলোতেও। সূত্রের খবর, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও তাঁদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং আমলাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনাল অ্যান্ড ট্রেনিং (DoPT) খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করতে পারে বলে খবর।
আসছে কড়া দিন?
আগামী দিনে বড় আকারের সরকারি অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এমনকি সরকারি কর্মীদের যাতায়াতের জন্য মেট্রো বা পুলকার ব্যবহারের আবেদন জানাতে চলেছে সরকার। জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই জরুরি পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘ত্যাগ’ দেশের প্রশাসনিক স্তরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।