তেলের দামে আগুন! খরচ কমাতে নিজের কনভয়েই কোপ দিলেন মোদী, বড় পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির। এই সংকটের মুহূর্তে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে এবার নিজেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তেলের ব্যবহার কমাতে ও সরকারি খরচ সাশ্রয় করতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি-কে (SPG) একটি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব নিরাপত্তা কনভয়ে থাকা যানবাহনের সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই কাটছাঁটের ফলে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।
ইলেকট্রিক গাড়িতেই কি ভরসা?
জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে কনভয়ে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) ব্যবহার বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন মোদী। তবে এই পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তিনি মিতব্যয়িতার ওপর জোর দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের জন্য নতুন করে কোনো গাড়ি কেনা যাবে না। বর্তমান সম্পদ ব্যবহার করেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।
আহ্বানের পর নিজেই পথ দেখালেন
গত রবিবার হায়দরাবাদের একটি জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা কেনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আবেদন জানিয়েছিলেন। মূলত বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করতেই এই আর্জি ছিল তাঁর। সেই আহ্বানের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় নিজের কনভয় ছোট করে দেশবাসীকে সাশ্রয়ের সরাসরি বার্তা দিলেন তিনি।
রাজ্যগুলোতেও পড়ছে প্রভাব
প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা ইতিমধ্যেই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। গুজরাট এবং অসমে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের সময় দেখা গিয়েছে আগের তুলনায় অনেক কম গাড়ি। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর পথে হেঁটে নিজেদের কনভয় ছোট করার নির্দেশ জারি করেছেন। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাটিল নিজের এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অর্থনীতি বাঁচাতে মোদীর ‘সপ্তপদী’ পরামর্শ
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন দিয়েছেন:
যাতায়াত: ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো রেল বা কারপুলিং-এ জোর দেওয়া।
কর্মক্ষেত্র: সম্ভব হলে বাড়িতে বসে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতি বজায় রাখা।
পণ্য পরিবহন: ভারী পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পার্সেল সার্ভিস ব্যবহার করা।
খাদ্য ও কৃষি: ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানো এবং রাসায়নিক সারের বদলে প্রাকৃতিক চাষে গুরুত্ব দেওয়া।
স্বদেশি পণ্য: বিদেশি পণ্যের মোহ ত্যাগ করে আত্মনির্ভরতাকে শক্তিশালী করা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির আঁচ থেকে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োচিত এবং সাহসী পদক্ষেপ। নিজের সুবিধা কাটছাঁট করে প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিলেন, তা দেশের প্রশাসনিক স্তরে এক নতুন সংস্কৃতি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।