বিদেশে বিয়ে নয়, সোনাতেও ‘না’! দেশবাসীর কাছে হাত জোড় করে বড় আবদার মোদীর! নেপথ্যে কি তবে বড় কোনো সংকট?

করোনাকালের সেই চেনা ছবি কি তবে ফিরে আসছে? অফিস যাওয়ার ঝক্কি এড়িয়ে আবারও কি শুরু হতে চলেছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ? কোনো জল্পনা নয়, খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক এক বার্তায় এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। তবে শুধু অফিস নয়, বিয়েতে সোনা কেনা থেকে শুরু করে বিদেশ ভ্রমণ— একাধিক বিষয়ে দেশবাসীকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কেন হঠাৎ এই কড়া দাওয়াই?
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি আমদানির খরচ। এই সংকট মোকাবিলা করতেই রবিবার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেমের নতুন সংজ্ঞা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “দেশপ্রেম মানে শুধু সীমান্তে লড়াই নয়, দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে সাধারণ মানুষের দায়িত্বশীল আচরণও এক ধরণের দেশপ্রেম।”

সরকারের কাঁধে ১৬০০ কোটির বোঝা
প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের পকেটে যাতে টান না পড়ে, তার জন্য সরকার প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ থেকে ১৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এই বিপুল খরচ সামাল দিতেই পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানোর ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর পরামর্শ, যতটা সম্ভব ট্রেন, মেট্রো বা বাসের মতো গণপরিবহন ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে কার-পুলিং বা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর জোর দিন।

ফিরছে কি ওয়ার্ক ফ্রম হোম?
জ্বালানি বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সমস্ত অফিসে সম্ভব, সেখানে আবারও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা হোক। সশরীরে উপস্থিত না থেকে অনলাইন মিটিং বা ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজ সারলে একদিকে যেমন যাতায়াতের খরচ বাঁচবে, তেমনই বাঁচবে মূল্যবান জ্বালানিও।

সোনা কেনা ও বিদেশ ভ্রমণে ‘না’
প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের তালিকায় সবথেকে চমকপ্রদ হলো সোনা এবং বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা। তিনি বলেন:

সোনা: আগামী এক বছর খুব প্রয়োজন না থাকলে সোনা কিনবেন না। বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে টান পড়ছে।

বিদেশ ভ্রমণ: এ বছর ঘোরার তালিকা থেকে বিদেশের নাম বাদ দিন। এমনকি বিদেশে গিয়ে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ করার বিলাসিতাও এখন ত্যাগ করা উচিত।

১০ শতাংশ সাশ্রয়েই ফিরবে ভাগ্য
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত ১০ সপ্তাহে তেল ও সোনা আমদানিতেই দেশের ভাঁড়ার থেকে ১ লক্ষ কোটি টাকা বেরিয়ে গিয়েছে। মোদীর হিসেব অনুযায়ী, যদি দেশের মানুষ মাত্র ১০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারেন, তবে প্রতিদিন ১৬০ কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব। এর পাশাপাশি রান্নার তেলের ব্যবহার কমানো এবং ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য কেনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বিদেশে টাকা না উড়িয়ে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের টাকা দেশের ভেতরেই থাকুক। আপনি যখন দেশি হোটেল বা চালককে টাকা দেন, তখন গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।” এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই আবেগপূর্ণ আবেদনে আমজনতা কতটা সাড়া দেয়।