মুছে গেল মমতার ‘ব’! নবান্নে এবার শুধুই অশোকস্তম্ভ, বঙ্গজয়ের পর লোগো বদলে বড় পদক্ষেপ বিজেপির

বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল হতেই এবার প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করল নবগঠিত বিজেপি সরকার। গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিটি স্তরে যে ‘ব’ অক্ষরের নকশা সম্বলিত লোগোটি ব্যবহৃত হতো, তা এবার চিরতরে বিদায় নিতে চলেছে। নীল-সাদা জমানার অবসান ঘটিয়ে সরকারি লোগো থেকে ‘বিশ্ববাংলা’র চিহ্ন মুছে ফেলে জাতীয় প্রতীক অশোকস্তম্ভকেই পুনরায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
‘ব’ মুক্ত সরকারি নথি
তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে রাজ্য সরকারের ছোট-বড় সব ধরণের লোগোতে ‘বিশ্ববাংলা’র আদলে একটি ইংরেজি ও বাংলার সংমিশ্রণে ‘ব’ নকশা থাকত। ওই নকশার ঠিক ওপরের দিকে ছোট আকারে ঠাঁই পেত অশোকস্তম্ভ। কিন্তু নতুন সরকারের নির্দেশে এখন থেকে সমস্ত সরকারি চিঠি, নথিপত্র এবং বিজ্ঞাপনে আর সেই পরিচিত লোগো দেখা যাবে না। পরিবর্তে ভারতের জাতীয় প্রতীক অশোকস্তম্ভই হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একমাত্র আনুষ্ঠানিক পরিচয়।
স্কুল ইউনিফর্ম ও প্রশাসনিক স্তরে বদল
এতদিন সরকারি স্কুলের পোশাক থেকে শুরু করে সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্রে ‘বিশ্ববাংলা’ লোগোর সরব উপস্থিতি ছিল। বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রথা খারিজ করে দিয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতীক হিসেবে এখন থেকে জাতীয় প্রতীক অশোকস্তম্ভকেই ব্যবহার করা হবে। সমস্ত সরকারি নথিপত্রে এই প্রতীকটিই রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করবে।
কপিরাইট ফিরবে মমতার কাছে?
উল্লেখ্য, ‘বিশ্ববাংলা’ লোগোটির স্রষ্টা ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার যতদিন ইচ্ছা এই লোগোটি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবে। তবে শর্ত ছিল, যদি কখনও সরকার এটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়, তবে লোগোটির স্বত্ব বা কপিরাইট পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই ফিরে যাবে। বর্তমানে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লোগোটি সরিয়ে দেওয়ায়, আইনত এর মালিকানা ফের তাঁর কাছেই ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিজেপির এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, সরকারি কাজে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির তৈরি লোগোর বদলে জাতীয় প্রতীক ব্যবহার করাই দস্তুর। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি, এটি বাংলার ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। সব মিলিয়ে, লোগো বদলের এই সিদ্ধান্ত যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য।