গেরুয়া আলোয় সেজেছে নবান্ন, কিন্তু গদি বদলাচ্ছে লালবাড়িতে! ভিভিআইপি জট কি এবার চিরতরে কাটবে?

দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের গঙ্গার এপারে ফিরতে চলেছে রাজ্যের প্রশাসনিক রাশ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সরকার নবান্ন নয়, বরং ঐতিহ্যের ‘লালবাড়ি’ বা মহাকরণ থেকেই রাজ্য পরিচালনা করবে। আর এই সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাওড়ার শিবপুর এলাকায় যেন উৎসব আর আশঙ্কার এক মিশ্র মেজাজ তৈরি হয়েছে।

“বন্দিদশা থেকে মুক্তি” না কি নিরাপত্তার অভাব?
২০১৩ সালে যখন মহাকরণ থেকে সচিবালয় নবান্নে স্থানান্তরিত হয়েছিল, তখন থেকেই শিবপুর এলাকার বাসিন্দাদের জীবনে এসেছিল এক আমূল পরিবর্তন। আজ মহাকরণে ক্ষমতা ফেরার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয়দের বড় একটি অংশ। তাঁদের দাবি, “ভিভিআইপি মুভমেন্টের জন্য দিনের পর দিন ব্যারিকেড আর যানজটে আমরা অতিষ্ঠ ছিলাম। স্কুলপড়ুয়া থেকে অফিসযাত্রী— সবাই যেন এক বন্দি জীবনের শিকার হয়েছিল।”

ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে টোটোচালক, অনেকেরই আশা— এবার হয়তো রাস্তার সেই লোহার গার্ডরেলগুলো সরবে, স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে শিবপুরের ট্রাফিক। নবান্নকে কেন্দ্র করে ছাদে ওঠা বা গাড়ি পার্কিং করার ওপর যে অলিখিত বিধিনিষেধ ছিল, তা থেকে মুক্তির গন্ধে খুশি গৃহবধূরাও।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে একাংশ
তবে খুশির জোয়ারের মধ্যেও কারো কারো কপালে চিন্তার ভাঁজ। নবান্ন সংলগ্ন এলাকার কিছু বাসিন্দার মতে, সচিবালয় থাকার কারণে এলাকায় যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকত, তা কি এবার হারিয়ে যাবে? তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মহাকরণে বসলেও নবান্নে যেন গুরুত্বপূর্ণ কোনও সরকারি দফতর রাখা হয়, যাতে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়।

গেরুয়া আলোয় সেজেছে নবান্ন
এদিকে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আজ সোমবারই প্রথম নবান্নে পা রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সন্ধ্যায় নবান্নকে সুসজ্জিত গেরুয়া আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মহাকরণে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে জানা গিয়েছে, আগামী শুক্রবার বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকটি নবান্নেই অনুষ্ঠিত হবে।

ইতিহাসের চাকা ঘুরে প্রশাসনিক ভরকেন্দ্র ফের লালবাড়িতে ফিরে যাওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। শিবপুর কি তার চেনা শান্ত জীবন ফিরে পাবে, নাকি নিরাপত্তার অভাব বোধ করবে— উত্তর দেবে সময়।