‘আমি শুভেন্দু অধিকারী…’ রাজ্যপালের সামনে শপথ নিয়ে কী গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী?

ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক বেলা ১১টা ৩১ মিনিট। দীর্ঘ টালবাহানা আর টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে রাজভবনের থ্রোন হলে রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁকে পদের ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান।
এদিন প্রথাগত রাজনীতিকের পোশাক ছেড়ে একদম অন্য রূপে ধরা দেন শুভেন্দু। আপাদমস্তক গেরুয়া বসনে সজ্জিত হয়ে মঞ্চে ওঠেন তিনি। শপথ নেওয়ার সময় তাঁর কণ্ঠে ছিল আত্মপ্রত্যয়। সংবিধানের ১৬৪(৩) অনুচ্ছেদ মেনে এবং থার্ড শিডিউল (তৃতীয় তফসিল) অনুযায়ী নির্দিষ্ট বয়ানেই এদিন বাংলার নতুন ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন তিনি।
শপথবাক্যে কী বললেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী?
প্রথমে ঈশ্বরের নামে পদের শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের সংবিধানের প্রতি অকৃত্রিম নিষ্ঠা ও আনুগত্য পোষণ করবেন এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভয় বা পক্ষপাতহীনভাবে রাজধর্ম পালন করবেন। এরপরই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘গোপনীয়তার শপথ’। যেখানে তিনি অঙ্গীকার করেন, প্রশাসনিক কাজের স্বার্থে যা গোপন রাখা প্রয়োজন, তা তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাউকেই প্রকাশ করবেন না।
শুভেন্দুর সারথী হিসেবে শপথ নিলেন আরও পাঁচ
এদিন রাজভবনের অনুষ্ঠান মঞ্চে শুধুমাত্র শুভেন্দু অধিকারীই ছিলেন না, তাঁর সঙ্গেই নতুন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন আরও পাঁচ হেভিওয়েট নেতা। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন:
দিলীপ ঘোষ
অগ্নিমিত্রা পাল
নিশীথ প্রামাণিক
অশোক কীর্তনিয়া
ক্ষুদিরাম টুডু
বদলের হাওয়া প্রশাসনের অন্দরে
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শপথ গ্রহণ শুধুমাত্র এক ব্যক্তির উত্থান নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামোর এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একদিকে যখন শহর জুড়ে আলো বদলের খেলা চলছে, অন্যদিকে তখন রাজভবনের এই শপথ অনুষ্ঠান রাজ্যের আগামী দিনের রাজনীতির দিশা ঠিক করে দিল। এখন দেখার, এই নতুন টিম নিয়ে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ শুভেন্দু অধিকারী বাংলার উন্নয়নের চাকাকে কত দ্রুত ঘোরাতে পারেন।