৫৫ বছর পর জেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী পাচ্ছে বাংলা! ব্রিগেডের শপথ মঞ্চে চাঁদের হাট, উপচে পড়া ভিড় ঝালমুড়ির দোকানে

ইতিহাস গড়ল বাংলা। নীল বাড়ি দখলের লড়াই শেষে আজ ব্রিগেডের বিশাল ময়দানে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে প্রথমবার সরকার গড়ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে আজ সকাল থেকেই তিলোত্তমায় ‘সুপার স্যাটারডে’-র মেজাজ। কিন্তু রাজনীতির এই মেগা ইভেন্টের কেন্দ্রবিন্দুতে আচমকাই জায়গা করে নিয়েছে এক ঠোঙা ‘ঝালমুড়ি’!
শপথ মঞ্চে ‘হটকেক’ ঝালমুড়ি:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঝাড়গ্রামে ভোটের প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। সেই থেকেই এবারের নির্বাচনে ঝালমুড়ি যেন বিজেপির জয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এমনকি ৪ মে ফল ঘোষণার দিন খোদ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকেও ঝালমুড়ি খেয়ে সেলিব্রেট করতে দেখা গিয়েছিল। আজ শুভেন্দুর শপথ অনুষ্ঠানেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ব্রিগেডের মাঠজুড়ে বসেছে একাধিক ঝালমুড়ির স্টল। হাতে ঝালমুড়ির ঠোঙা নিয়েই উচ্ছ্বসিত কর্মী-সমর্থকরা পালন করছেন ‘অঙ্গ, কলিঙ্গ ও বঙ্গ’ জয়ের উৎসব।
৫৫ বছর পর ইতিহাস:
প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক পর জেলা থেকে উঠে আসা কোনো জননেতা বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই মেদিনীপুর থেকে নবান্নের যোগসূত্র স্থাপিত হলো। ২০৭টি আসনে বিপুল জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পর আজ ২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে বেলা ১১টা থেকে শুরু হতে চলেছে এই মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।
ব্রিগেডে চাঁদের হাট:
শুভেন্দুর রাজ্যাভিষেক দেখতে ইতিমধ্যেই কলকাতায় পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত থাকছেন বিজেপি শাসিত ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। সকাল সকাল পৌঁছে গিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও।
বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে একদিকে যেমন প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে, তেমনই ব্রিগেডের মাঠে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় আর ঝালমুড়ির স্বাদ মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। গেরুয়া ঝড়ে বাংলায় আজ এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।