পার্থর সেই রহস্যময় ঘর খুলল বিধানসভায়! পাশে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষ, কার দখলে যাচ্ছে এই হাই-প্রোফাইল রুম?

বাংলার রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত। একদিকে যখন নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিধানসভায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি কক্ষের তালা খোলা হলো। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের জুলাই মাসে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিধানসভার ঘরটি বন্ধ ছিল। শুক্রবার সেই ঘরের তালা যেমন ভাঙা হলো, তেমনই সাজিয়ে তোলা হচ্ছে গোটা বিধানসভা চত্বর।

পার্থর ঘরের নতুন দাবিদার কে?
বিধানসভার অন্দরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই ঘরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। কারণ, এই ঘরের ঠিক পাশেই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কক্ষ। দীর্ঘ ২২ মাস বন্ধ থাকার পর আজ ঘরটি পরিষ্কার করা হয়। রাজনৈতিক মহলে এখন বড় প্রশ্ন— নতুন মন্ত্রিসভায় এই হাই-প্রোফাইল ঘরটি শেষ পর্যন্ত কোন হেভিওয়েট মন্ত্রীর কপালে জুটতে চলেছে?

সাজ সাজ রব বিধানসভায়
শনিবারের মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে উৎসবের মেজাজ বিধানসভা চত্বরে। স্পিকারের ঘর থেকে শুরু করে অলিন্দ— সর্বত্রই নতুন আলোর রোশনাই। ইতিমধ্যেই খুলে দেখা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরটিও। সব মিলিয়ে এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরুর অপেক্ষায় বিধানসভার প্রতিটি ইট-কাঠ-পাথর।

অমিত শাহের কলকাতায় পদার্পণ: নজরে নতুন মুখ্যমন্ত্রী
রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে শুক্রবার সকালেই কলকাতায় পা রেখেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজই বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কার নামে সিলমোহর পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

ভেঙে দেওয়া হলো সপ্তদশ বিধানসভা
নতুন সরকার শপথ নেওয়ার প্রাক্কালে রাজ্যপাল টিএন রবির নির্দেশে সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ৭ মে থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। এর অর্থ হলো, পূর্ববর্তী সরকারের অস্তিত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত। শনিবার সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে আজ পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার কাজ তদারকি করবেন অমিত শাহ নিজেই।

উন্নয়নের অঙ্গীকার আর ঐতিহ্যের মিশেলে এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় এখন গোটা পশ্চিমবঙ্গ।