পরমাণু চুক্তি না কি যুদ্ধের দামামা? ট্রাম্পের ‘মেগা অফারে’ কাঁপছে ইরান, হার মানবেন কি খোমেইনি?

বিশ্ব রাজনীতিতে মহাবিস্ফোরণের ইঙ্গিত! ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত পারমাণবিক চুক্তি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সামনে স্রেফ এক পাতার কোনো সাধারণ সমঝোতা নয়, বরং এক বিশাল ‘মেগা প্রপোজাল’ পেশ করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, তেহরান এই প্রস্তাবে রাজি হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ চিরতরে কেটে যাবে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছিল, দুই দেশ তিনটি মূল বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে সিএনএন-এর দাবি, ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক অস্ত্র, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ খসড়া পাঠিয়েছে।
ট্রাম্পের সেই ‘বিস্ফোরক’ প্রস্তাবে কী কী আছে?
১. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে লাগাম: আগামী ১০ বছর ইরান ৩.৬৭ শতাংশের বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। ওবামা জমানার চুক্তি ১৫ বছরের হলেও ট্রাম্প এটি ২০ বছর করতে চেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, পারমাণবিক জ্বালানির জন্য ৩.৬৭ শতাংশ যথেষ্ট হলেও মারণাস্ত্র বানাতে লাগে ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
২. খনিজ হস্তান্তর: ইরানের হাতে থাকা ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক খনিজ দ্রব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে। গোটা প্রক্রিয়াটি চলবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) নজরদারিতে। তবে ইরান এখনই খনিজ সম্পদ সরাসরি ওয়াশিংটনকে দিতে নারাজ, তারা তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এটি করতে চাইছে।
৩. মুক্ত হরমুজ প্রণালী: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে। কোনো জাহাজ থেকে টোল আদায় করা যাবে না। ইরান এখানে একটি টোল ব্যবস্থা চালুর পক্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তা সাফ নাকচ করে দিয়ে অবাধ যাতায়াতের দাবি জানিয়েছে।
৪. নিষেধাজ্ঞা মুক্তি ও বিশাল অর্থ ফেরত: যদি ইরান এই শর্তগুলো মানে, তবে তাদের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার তহবিল ফেরত দেওয়া হবে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের জন্য ইরান এখনই এই অর্থের একটি অংশ দাবি করেছে এবং ওয়াশিংটন তাতে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে।
“সকালে এক কথা, সন্ধ্যায় আরেক”—বিরক্ত ট্রাম্প!
এই চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছুটা মেজাজ হারান। তিনি বলেন, “ইরান চুক্তির জন্য মুখিয়ে আছে ঠিকই, কিন্তু তাদের শর্ত ঘনঘন বদলাচ্ছে। আমি এমন এক সরকারের সাথে আলোচনা করছি যারা সকালে এক কথা বলে তো সন্ধ্যায় আরেক কথা। এ কারণেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে।”
চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের সাফ কথা, যদি এই প্রস্তাবে ইরান শেষ পর্যন্ত রাজি না হয়, তবে সামরিক হামলা চালানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। গোটা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই চুক্তি কি শান্তির দূত হবে না কি নতুন কোনো যুদ্ধের মহড়া—তা সময়ই বলবে।