১ চার্জে চলবে দ্বিগুণ পথ! ই-স্কুটারের ব্যাটারি নিয়ে দুশ্চিন্তা মেটান এই ৫ ম্যাজিক ট্রিক্সে

ভারতের বাজারে এখন ইলেকট্রিক স্কুটারের জয়জয়কার। আকাশছোঁয়া পেট্রোলের দাম থেকে বাঁচতে মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ এখন ই-স্কুটার। রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ার কারণে শহর বা মফস্বলে এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। কিন্তু ইভি ব্যবহারকারীদের মনে একটাই কাঁটা— ব্যাটারির রেঞ্জ! অনেক সময় দেখা যায়, কোম্পানি যে মাইলেজের দাবি করে, বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। ট্রাফিক জ্যাম, আবহাওয়া কিংবা ভুল ড্রাইভিং অভ্যাসের কারণে মাঝপথেই ব্যাটারি জবাব দেয়। তবে কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললে আপনি অনায়াসেই আপনার স্কুটারের রেঞ্জ বাড়িয়ে নিতে পারেন।

মসৃণ চালনা: অ্যাক্সিলারেটরে নিয়ন্ত্রণ আনুন
ইলেকট্রিক স্কুটার চালানোর সময় হঠাৎ করে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে গতি বাড়ানো একদমই উচিত নয়। এতে মোটরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। সবসময় ধীরে ধীরে গতি বাড়ানোর অভ্যাস করুন। বিশেষ করে জ্যামের মধ্যে বারবার গতি কমানো বা বাড়ানোর সময় সচেতন থাকলে ব্যাটারির আয়ু অনেকটা বাড়ানো সম্ভব।

রাইডিং মোডের স্মার্ট ব্যবহার
আজকাল বেশিরভাগ স্কুটারে ইকো (Eco), সিটি (City) এবং স্পোর্ট (Sport) মোড থাকে। মনে রাখবেন, স্পোর্ট মোড মানেই ব্যাটারির দ্রুত ক্ষয়। দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য সবসময় ‘ইকো মোড’ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে মোটরের ওপর চাপ কম পড়ে এবং এক চার্জেই আপনি অনেকটা বেশি পথ যেতে পারবেন।

টায়ারের হাওয়া কি ঠিক আছে?
অনেক চালকই টায়ারের চাপের বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, টায়ারে হাওয়া কম থাকলে রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণ বেড়ে যায়, ফলে মোটরকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়। এতে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার টায়ারের প্রেশার চেক করুন এবং কোম্পানির নির্দেশিকা অনুযায়ী হাওয়া বজায় রাখুন।

চার্জ দেওয়ার সঠিক নিয়ম
স্কুটার চালিয়ে ফেরার পরেই সঙ্গে সঙ্গে চার্জে বসাবেন না। দীর্ঘক্ষণ চলার ফলে ব্যাটারি গরম থাকে, ওই অবস্থায় চার্জ দিলে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়। অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন, ব্যাটারি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে তবেই প্লাগ ইন করুন। এছাড়া অতিরিক্ত মালপত্র বা ভারী বোঝা বহন করা এড়িয়ে চলুন, কারণ ওজন যত বাড়বে, রেঞ্জ তত কমবে।

রিজেনারেটিভ ব্রেকিংয়ের সুবিধা নিন
আধুনিক ইলেকট্রিক স্কুটারগুলোতে ‘রিজেনারেটিভ ব্রেকিং’ ফিচার থাকে। এটি ব্রেক করার সময় উৎপন্ন শক্তিকে পুনরায় ব্যাটারিতে পাঠিয়ে দেয়। তাই বারবার কড়া ব্রেক না করে ধীরে ও মসৃণভাবে ব্রেকিংয়ের অভ্যাস করুন।

পকেটের সাশ্রয় আর নিশ্চিন্ত সফর— এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটাতে আজই আপনার ড্রাইভিং অভ্যাসে এই ছোটখাটো বদলগুলো আনুন। দেখবেন, আপনার সাধের ই-স্কুটার দিচ্ছে আগের চেয়ে অনেক বেশি মাইলেজ!