৫০ সেকেন্ডে অপারেশন খতম! শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে খুনের হাড়হিম করা সিসিটিভি ফুটেজ এল সামনে

গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ফালাফালা করে দিয়ে চলল ১০ রাউন্ড গুলি। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের এক ‘নিখুঁত’ অপারেশনে শেষ করে দেওয়া হলো বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। ঘড়ির কাঁটা ধরে চালানো এই শ্যুটআউটের হাড়হিম করা সিসিটিভি ফুটেজ এখন পুলিশের হাতে, যা ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

টার্গেট ছিল নির্দিষ্ট: ৫০ সেকেন্ডের অপারেশন
তদন্তে নেমে পুলিশ দেখেছে, গোটা অপারেশনটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। রাত ১০টা নাগাদ একটি রূপোলি রঙের গাড়ি প্রথমে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। ১০টা ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ড নাগাদ চন্দ্রনাথ বাবু সাদা রঙের গাড়ি নিয়ে যখন বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছান, তখনই ওই রূপোলি গাড়িটি তাঁর রাস্তা আটকায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই পেছন থেকে বাইকে করে চলে আসে বাকি আততায়ীরা। অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে একের পর এক গুলি চালিয়ে চন্দ্রনাথ রথকে ঝাঁঝরা করে দেয় তারা।

সিসিটিভি ফুটেজে খুনের নৃশংস ছবি
প্রকাশ্যে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, আততায়ীদের গাড়িটি অনেক আগে থেকেই এলাকা রেইকি করছিল। গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি চন্দ্রনাথের গাড়িতে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে তারা। হামলার সময় এলাকায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, স্থানীয়রা দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পাশের দোকানে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। কাজ শেষে মুহূর্তের মধ্যেই বাইকে চেপে এলাকা ছাড়ে দুষ্কৃতীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় চন্দ্রনাথ এবং তাঁর চালককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

নেপথ্যে কি পেশাদার শার্প শ্যুটার?
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের পেছনে রয়েছে কোনো পেশাদার শার্প শ্যুটার গ্যাং। হামলাকারীরা অনেকদিন ধরেই চন্দ্রনাথের গতিবিধি নজরে রাখছিল। রূপোলি গাড়ির চালকের সঙ্গে বাইক আরোহীদের নিরন্তর তথ্য বিনিময় চলছিল বলেও সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো দুষ্কৃতী ধরা না পড়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দারা আশপাশের এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ঘটনার পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে আততায়ীদের চিহ্নিত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।