ক্ষমতায় এসেই কথা রাখছে বিজেপি? সরকারি কর্মীদের জন্য ৪৫ দিনের ‘ডেডলাইন’, সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বড় আপডেট!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্দরে একটাই প্রশ্ন— ‘ডিএ (DA) এবং পে কমিশন কি তবে দোরগোড়ায়?’ ভোটের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া সেই জোরালো প্রতিশ্রুতি কি এবার বাস্তবে রূপ পেতে চলেছে? নবান্নের অলিন্দে এখন সরকারি কর্মীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ৪২ শতাংশের বিশাল ফারাক এবং বহুল প্রতীক্ষিত সপ্তম বেতন কমিশন।

অমিত শাহের সেই ৪৫ দিনের ‘ডেডলাইন’:
নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের সময় বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছিল, রাজ্যে সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই লাগু করা হবে সপ্তম বেতন কমিশন। শুধু তাই নয়, ছয় মাসের মধ্যে অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে পদক্ষেপের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সারা দেশের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পেলেও, বাংলায় এখনও ষষ্ঠ কমিশন চলায় ক্ষোভ ছিল দীর্ঘদিনের। এবার নতুন সরকার আসতেই সেই ক্ষোভ প্রশমনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

DA-র হিসেব ও ৪ শতাংশের ধোঁয়াশা:
তৃণমূল জমানার শেষ অন্তর্বর্তী বাজেটে ৫ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হয়েছিল যে, ১ এপ্রিল থেকে সরকারি কর্মীরা আরও ৪ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন। কিন্তু সেই সংক্রান্ত সরকারি অর্ডার বা জিও (GO) এখনও জারি হয়নি। এর ফলে কর্মীরা দোটানায়—আগের ঘোষিত ৪ শতাংশ কি মিলবে? নাকি নতুন সরকার সরাসরি কেন্দ্রীয় হারে (৬০ শতাংশ) ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে? বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ফারাক আকাশছোঁয়া ৪২ শতাংশ। এই বিশাল ব্যবধান ঘোচানোই এখন নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

নজরে সুপ্রিম কোর্ট ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর:
গত বুধবার, ৬ মে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে রাজ্যের আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে সেই শুনানি আরও তিন সপ্তাহ পিছিয়ে গিয়েছে। আদালতের লড়াই যখন একদিকে চলছে, অন্যদিকে কর্মীদের নজর আটকে রয়েছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’-এর ওপর। নতুন পে কমিশন চালু হলে মূল বেতন বা বেসিক পে কতটা বাড়বে, তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

উপসংহার:
বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই সরকারি কর্মচারী মহলে খুশির হাওয়া থাকলেও, প্রত্যাশার চাপ বাড়ছে প্রশাসনের ওপর। ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি মেনে ৪৫ দিনের মধ্যে কি সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণা আসবে? নাকি বকেয়া ডিএ মিটিয়ে কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাবে নতুন মন্ত্রিসভা? উত্তরের অপেক্ষায় এখন লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।