২০৭ আসনে জিতে ইতিহাস বিজেপির, কিন্তু কার মাথায় বসছে বাংলার তাজ? চূড়ান্ত ৩টি নাম নিয়ে তোলপাড়!

১৫ বছরের জোড়াফুল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসনে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। বাংলায় এখন পরিবর্তনের উৎসব। কিন্তু জয়ের আনন্দের মাঝেই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নবান্নের নতুন অধিপতি কে? এই নিয়ে এখন সরগরম দিল্লির অলিন্দ থেকে কলকাতার রাজপথ।

পছন্দের দৌড়ে হেভিওয়েটরা

রাজ্য বিজেপির অন্দরে কান পাতলে বেশ কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে। মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে প্রথম সারিতেই রয়েছেন নন্দীগ্রামের লড়াকু নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং সংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ তাঁকে অনেকটা এগিয়ে রাখছে। পিছিয়ে নেই ‘পুরোনো চাল’ দিলীপ ঘোষও। সংগঠনের একদম নিচুতলা থেকে দলকে টেনে তোলা এবং খাস আরএসএস-এর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁর নামটিও তালিকার ওপরের দিকেই রয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং শান্ত অথচ কৌশলী নেতা শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়েও জল্পনা কম নয়। শিক্ষিত এবং ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে এঁদের যে কোনো একজনকে বেছে নিয়ে মোদী-শাহ বড় কোনো চমক দেবেন কি না, তা নিয়েও চর্চা চলছে।

দিল্লির বিশেষ নজর

বিজেপি সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল বিধানসভার জয় নয়, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের সমীকরণকেও মাথায় রাখছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই জাতিগত সমীকরণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা— সব কিছু বিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকের পরই হয়তো কোনো কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কলকাতায় এসে নাম ঘোষণা করবেন।

কে মারবেন শেষ হাসি?

তৃণমূলের দাপুটে শাসনের ইতি টেনে বিজেপি এখন জয়ের সরণিতে। তবে কুর্সিতে বসার আগে লড়াইটা এখন সমানে সমানে। শুভেন্দুর অভিজ্ঞতা, দিলীপের মেজাজ নাকি সুকান্ত-শমীকের মতো শিক্ষিত তারুণ্য— শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। আপাতত ‘মোদী-শাহর পকেটে’ থাকা সেই নামটির অপেক্ষায় দিন গুনছে গোটা বাংলা।