“১০০ বছর রাজত্ব করবে পদ্ম!” নন্দীগ্রামে পা রেখেই তৃণমূলের ‘পাপীদের’ নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

তিনি কথা দিয়েছিলেন, কথা রেখেছেন। ২০১৬ এবং ২০২১-এর পর ২০২৬— হ্যাটট্রিক করে নন্দীগ্রামের মাটি যে তাঁরই দুর্গ, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে পা রাখতেই কার্যত জনজোয়ারে ভাসলেন তিনি। আবির খেলা আর জয়ধ্বনিতে তখন সরগরম সোনাচূড়া থেকে নন্দীগ্রাম বাজার। তবে এই উচ্ছ্বাসের মাঝেই শুভেন্দু শুনিয়ে গেলেন আগামী ১০০ বছরের ভবিষ্যৎবাণী এবং দিলেন এক কঠিন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত।

কোন আসনটি ছাড়ছেন শুভেন্দু?

এবারের নির্বাচনে জোড়া লড়াই লড়েছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামে ৯ হাজারের বেশি ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি খোদ ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ভোটে হারিয়েছেন তিনি। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, ১০ দিনের মধ্যে একটি আসন তাঁকে ছাড়তেই হবে। তবে কি নিজের গড় নন্দীগ্রাম ছেড়ে তিনি ভবানীপুরকেই বেছে নেবেন? এই জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখন শুভেন্দু আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “নন্দীগ্রামের ঋণ আমি শোধ করবই। তবে দল যা বলবে আমি তাই মানব। আমি শৃঙ্খলাপরায়ণ কর্মী, একা কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।” তবে এদিন তাঁর কথায় বারবার ফিরে এসেছে নন্দীগ্রামের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, যা দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা— আসন ছাড়লেও নন্দীগ্রামের নাড়ির টান তিনি আলগা হতে দেবেন না।

১০০ বছর থাকবে পদ্ম, লক্ষ্য ৬০ শতাংশ ভোট

এদিন জয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, “রাজ্যে এবার আসল পরিবর্তন হল। আমরা এমন কাজ করব যাতে আগামী ১০০ বছর এখানে বিজেপি সরকার টিকে থাকে। আগামীতে আমরা ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পাব।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি তোপ দাগেন, “এই মমতা জলের পাইপ পাততে দেয়নি। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, ৬ মাসের মধ্যে প্রত্যেকের ঘরে পানীয় জল পৌঁছাবে। হলদিয়া-নন্দীগ্রাম ব্রিজ থেকে আইটিআই কলেজ— সব হবে।”

“আইন হাতে তুলে নেবেন না”

বিজয়োল্লাসের মাঝেও দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট বলেন, “তৃণমূলের কোনো পার্টি অফিসে হাত দেবেন না। ওরা যা করেছে আপনারা তা করবেন না। ওই পাপীদের উপেক্ষা করুন।” পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাঁর হুঙ্কার, “৯ তারিখের পর পুলিশের অনুমতি নিয়ে বিজয় মিছিল হবে। চোর-গুন্ডাদের দায়িত্ব আমার ওপর ছেড়ে দিন। বিএনএস (BNS)-এর ধারায় সব মামলা খোলা হবে। আইনের পথে যা করার আমি করব, আপনারা কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না।”

শুভেন্দুর এই ‘নরমে-গরমে’ বার্তা বুঝিয়ে দিল, জয়ী হলেও তিনি এখন অনেক বেশি কৌশলী। একদিকে উন্নয়নের ডালি সাজানো, অন্যদিকে বিরোধীদের আইনি পথে কোণঠাসা করা— ছাব্বিশের জয়ের পর এই দ্বিমুখী নীতিতেই এগোতে চাইছে বিজেপি শিবির। সব মিলিয়ে, শুভেন্দুর নন্দীগ্রাম সফর কেবল বিজয় উৎসব হয়ে রইল না, তা হয়ে উঠল আগামী দিনের শাসননীতির ব্লু-প্রিন্ট।