অঙ্কের ভূত পালাবে এবার! ২৫ কোটি পড়ুয়ার জন্য গেম খেলার ছলে গণিত শেখার ম্যাজিক পোর্টাল

অঙ্ক মানেই কি ভয়? একগাদা সূত্র আর খাতার পাতায় কাটাকুটি? ভারতের কোটি কোটি পড়ুয়ার এই ভীতি দূর করতে এবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (AICTE)-এর অধীনে থাকা ‘অনুবাদিনী AI’ এবং গেম-ভিত্তিক লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘ম্যাথজ়োরো’ (MathZoro) হাত মিলিয়ে দেশের ২৫ কোটিরও বেশি স্কুলপড়ুয়ার জন্য গণিত শিক্ষাকে জলভাতের মতো সহজ করে তুলতে চলেছে।
গেম খেললেই শেখা যাবে অঙ্ক!
রামাদেভু রামকুমারের মস্তিষ্কপ্রসূত প্ল্যাটফর্ম ‘ম্যাথজ়োরো’ মূলত ‘শিখবে, খেলবে এবং জিতবে’ (Learn, Play, Earn, Unlock) মডেলে কাজ করে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য এখানে বীজগণিত, জ্যামিতি বা ত্রিকোণমিতির মতো জটিল বিষয়গুলো সাজানো হয়েছে মজার সব গেমের আকারে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, মফস্বল বা গ্রামের যেখানে ইন্টারনেটের গতি কম, সেখানেও এই অ্যাপ অনায়াসেই কাজ করবে।
নিজের ভাষায় শিক্ষার অধিকার
ভাষা যেন শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে ড. বুদ্ধ চন্দ্রশেখরের নেতৃত্বাধীন ‘অনুবাদিনী AI’। এই প্ল্যাটফর্মটি ইতিমধ্যেই ২২টি ভারতীয় ভাষায় সফলভাবে অনুবাদ করতে সক্ষম। এই নতুন চুক্তির ফলে ম্যাথজ়োরো অ্যাপটি এখন রিয়েল-টাইমে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ, রাজস্থানের পড়ুয়া হিন্দি বা তামিলনাড়ুর পড়ুয়া নিজের মাতৃভাষাতেই একই প্ল্যাটফর্ম থেকে অঙ্ক শিখতে পারবে। জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP 2020)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের জন্য পোয়াবারো
কেবল ছোটদের গেম খেলা নয়, এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে আরও চমক:
পরীক্ষার প্রস্তুতি: ‘অনুবাদিনী AI’-এর ‘পরীক্ষা’ (Pariksha) ফিচারের মাধ্যমে JEE, NEET এমনকি UPSC-র মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যাবে।
শিক্ষকদের জন্য সুবিধা: কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে CBSE বা ICSE বোর্ডের সিলেবাস মেনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি করে দেবে এই প্রযুক্তি। ফলে শিক্ষকদের পরিশ্রম কমবে অনেকটাই।
শিক্ষার নয়া দিগন্ত
নয়া দিল্লির AICTE সদর দফতরে আয়োজিত এই ঘোষণায় ড. বুদ্ধ চন্দ্রশেখর স্পষ্ট জানান, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারতের প্রতিটি কোণে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, ম্যাথজ়োরো-র প্রতিষ্ঠাতা মনে করেন, স্মার্টফোনকে স্রেফ বিনোদনের মাধ্যম না রেখে তাকে ছাত্রছাত্রীদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার করে তুলবে এই প্রজেক্ট।
ভারতের এড-টেক (EdTech) দুনিয়ায় এটি অন্যতম বৃহৎ অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন থেকে অঙ্ক আর মাথা যন্ত্রণার কারণ নয়, বরং স্মার্টফোনের স্ক্রিনে এক একটা লেভেল পার করার মতোই রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে পড়ুয়াদের কাছে।