‘আমরা হারিনি, ভোট লুঠ হয়েছে!’ ইস্তফা দিতে সাফ মানা মমতার, নবান্নে উল্লাসে মাতলেন কর্মীরা

সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল রাজ্য রাজনীতির খোলনলচে বদলে দিয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বঙ্গে প্রথমবার সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। আর এই রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ এবার আছড়ে পড়ল রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নেও। যেখানে গত এক দশক ধরে শাসক শিবিরের দাপট ছিল, সেখানেই এবার শোনা গেল ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান।
নবান্নে পরিবর্তনের হাওয়া:
ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই সোমবার সকালে এক অন্য ছবি দেখা গেল নবান্নে। হাজিরা দিতে এসে সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ মেতে ওঠেন জয়ের উল্লাসে। কোনো রকম অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই নবান্নের ভেতরেই ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের অন্দরে কর্মচারীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের এক বড় ইঙ্গিত। প্রশাসনিক মহলে এখন একটাই গুঞ্জন— তবে কি আমলাতন্ত্রের অভিমুখও এবার বদলে যাচ্ছে?
ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা:
অন্যদিকে, নির্বাচনের এই ফলাফলকে মেনে নিতে নারাজ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কালীঘাটের বাড়িতে আয়োজিত এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জনাদেশ তৃণমূলের বিরুদ্ধে যায়নি, বরং পরিকল্পনা করে তাঁদের হারানো হয়েছে। তাঁর পাশে এদিন ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো শীর্ষ নেতৃত্বরা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “আমরা হারিনি। অন্তত ১০০টি আসন লুঠ করা হয়েছে। কমিশনই আসল ভিলেন।” তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, গণনা কেন্দ্রে তৃণমূলের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং সিসিটিভি বন্ধ করে ভোট লুট করা হয়েছে।
‘কেন ইস্তফা দেব?’
রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ার প্রস্তুতি নিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনই ইস্তফা দিতে নারাজ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জোর করে ভোট লুঠ করা হয়েছে, তাহলে ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?” তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদতে এই ‘কালো ইতিহাস’ তৈরি করেছে কমিশন।
রাজ্যে যখন একদিকে বিজয়ী বিজেপি কর্মীদের উল্লাস ও নবান্নে জয়ধ্বনি চলছে, অন্যদিকে কালীঘাট থেকে আন্দোলনের সুর বেঁধে দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনার মোড়ে দাঁড়িয়ে। আগামী দিনে আইনি লড়াই নাকি রাজপথের আন্দোলন— কোন পথে হাঁটে ঘাসফুল শিবির, সেটাই এখন দেখার।