“মমতা শেষ, এবার লক্ষ্য অখিলেশ!” লখনউয়ে সরাসরি যুদ্ধংদেহি বার্তা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে জোড়া আসনে বিপুল জয়ের স্বাদ পেয়েই চেনা মেজাজে ধরা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জয়ের শংসাপত্র হাতে নিয়েই তাঁর নিশানায় উঠে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয়কে হাতিয়ার করে শুভেন্দু এখন থেকেই আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিলেন।

হিন্দুত্ব ও মোদি-ঝড়ে জয়
নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই আসনেই জয়ী হওয়ার নেপথ্যে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ এবং জৈন ভোটারদের এককাট্টা হওয়াকে কৃতিত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট জানান, “নন্দীগ্রামের হিন্দুরা আমাকে ফের জিতিয়েছেন। সেখানে মুসলিম ভোট একতরফাভাবে তৃণমূলে গিয়েছে। এই জয় আসলে হিন্দুত্ব, বাংলা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জয়।” এমনকি সিপিএম-এর একটি বড় অংশ তাঁকে ভোট দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

অখিলেশকে হুঁশিয়ারি ও ‘ইন্ডি’ জোটকে কটাক্ষ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের রথ রুখে দিয়ে শুভেন্দুর ঘোষণা, “সব শেষ! রাহুল গান্ধী শেষ, তেজস্বী যাদব আগেই শেষ হয়েছে, আর আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শেষ হলেন।” এরপরই লখনউয়ের উদ্দেশে বার্তা পাঠিয়ে তিনি বলেন, “আগামী উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে অখিলেশ যাদবকেও মুছে ফেলা হবে।” তৃণমূলকে আম আদমি পার্টির সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে তৃণমূলের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ধন্যবাদ
বিজেপির এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পর শুভেন্দু অধিকারী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের প্রতি। তিনি বলেন, “এই জয় প্রত্যেক দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রবাদীর জয়। আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর ভরসা রাখার জন্য রাজ্যের সাধারণ ভোটারদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং প্রতিবেশী রাজ্যের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য কার্যত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বঙ্গ বিজেপির পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও নিজের প্রভাব বাড়াতে মরিয়া পদ্ম শিবিরের এই হেভিওয়েট নেতা।