টলিউড থেকে সরছেন স্বরূপ বিশ্বাস? ফেডারেশনের মাথায় বসছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়! জল্পনায় তোলপাড় সিনেপাড়া!

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এখন শুধুই গেরুয়া আভা। ১৫ বছরের বাম শাসনকে বিদায় জানিয়ে ২০১১-তে ঘাসফুল ফুটেছিল, আর ২০২৬-এ নবান্নের দখল নিল পদ্ম শিবির। কিন্তু রাজপাটের এই পালাবদলের ঢেউ আছড়ে পড়েছে টেকনিশিয়ান স্টুডিওর মেকআপ রুম থেকে শুরু করে এডিটিং প্যানেলেও। বিগত দেড় দশকে টলিপাড়ায় যে ‘ব্যান কালচার’ আর ‘থ্রেট কালচার’-এর অভিযোগ বারবার উঠেছে, এবার কি তা থেকে মুক্তি পাবে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি? প্রশ্ন এখন একটাই— রূপা গঙ্গোপাধ্যায় না প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কার হাতে উঠবে স্টুডিও পাড়ার রাশ?
টলিপাড়ার ‘ত্রাতা’ কে? আলোচনায় রূপা-বুম্বাদা
তৃণমূল জমানায় ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। কিন্তু বিজেপির ঝড়ে সব হিসেব ওলটপালট। টলিপাড়ার অভিনেতা থেকে টেকনিশিয়ান—সবারই দাবি, এবার রাজনীতি মুক্ত হোক ইন্ডাস্ট্রি। অভিনেতা অনিন্দ্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রূপালি রাই ভট্টাচার্যের গলায় স্পষ্ট সুর, “রূপা দি (গঙ্গোপাধ্যায়) যদি ফেডারেশনের মাথায় বসেন, তবেই ফিরবে স্বচ্ছতা।” অনিন্দ্যর বিস্ফোরক অভিযোগ, “অরূপ বিশ্বাসের অফিস থেকে ঠিক করা হতো পুরস্কার কে পাবে আর কার ডাক পড়বে না। রূপা দি এবং বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ) যদি ইন্ডাস্ট্রি চালান, তবেই শিল্পীরা সম্মানের সঙ্গে কাজ পাবেন।”
ব্যান কালচার আর থ্রেট কালচারের অবসান?
পরিচালক শ্রীলেখা মিত্রের সাফ কথা, “আগে যা চলছিল তার পুনরাবৃত্তি চাই না। ধর্মের নিরিখে যেন কাজ ভাগ না হয়। কাজের যোগ্যতায় যেন সবাই কাজ পায়।” অন্যদিকে, অভিনেতা জ্যাক ও দেবদূত ঘোষও চাইছেন রাজনীতি মুক্ত এক সুস্থ পরিবেশ। অভিযোগ উঠেছে, এতদিন শাসকের ঝাণ্ডা না ধরলে কাজ পাওয়া ছিল দুষ্কর। ছোট বাজেটের সিনেমা বা সিরিয়াল করতে গেলে ফেডারেশনের ‘মাতব্বরি’তে হিমশিম খেতে হতো প্রযোজকদের।
‘রগড়ে দেওয়ার’ আশঙ্কায় কেউ কেউ
তবে আশার মাঝেই আশঙ্কার সুর শুনিয়েছেন অভিনেত্রী রূপালি রাই ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিল্পীদের যে গুরুত্ব দিতেন, বিজেপি নেতারা সেটা দেন না। দিলীপ ঘোষের পুরনো মন্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি যেন শিল্পীদের সম্মান দিতে শেখে। অন্যদিকে, অভিনেতা ঋষি কৌশিক এই জয়কে ‘প্রত্যাশিত’ বলে জানিয়ে সহকর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন, “তাড়াহুড়ো না করে ধীরেসুস্থে পাল্টি খান।”
টেকনিশিয়ানদের হাহাকার
প্রখ্যাত সাউন্ড রেকর্ডিস্ট শম্ভু দাসের দাবি আরও বাস্তবমুখী। তিনি বলেন, “ইন্ডাস্ট্রির কোনো রঙ নেই। আমাদের স্বাস্থ্য বীমা নেই, পারিশ্রমিক বাড়লেও হাতে টাকা পৌঁছায় না। ঝকঝকে আধুনিক এক ইন্ডাস্ট্রি চাই যেখানে লকেট দি, রূপা দি বা রুদ্রনীলরা আমাদের ব্যথাটা বুঝবেন।”
নবান্নের সিংহাসনে বিজেপি বসলেও, টলিপাড়ার ‘মুখ অভিভাবক’ হিসেবে শেষ পর্যন্ত কার অভিষেক ঘটে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ইন্ডাস্ট্রি। যোগ্যতার জয় হবে নাকি ডমিনেশন জারি থাকবে—উত্তর দেবে সময়।