নবান্নে নজিরবিহীন নির্দেশিকা! ফাইল সরালেই কড়া ব্যবস্থা? বিজেপি আসার আগে কেন মাঝরাতে ঘুম উড়ল সরকারি আমলাদের?

গতকালের ভোট গণনার পর বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। জনতার ঐতিহাসিক রায়ে দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে এবার বাংলার মসনদে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট শেষ হলেই শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা। কিন্তু এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন থেকে জেলা স্তরের সরকারি অফিসগুলোতে জারি হলো এক অত্যন্ত কঠোর এবং নজিরবিহীন নির্দেশিকা।
মুখ্যসচিবের কড়া পদক্ষেপ
রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এক জরুরি নোটিশ জারি করে জানিয়েছেন, এখন থেকে সরকারি অফিস থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল বাইরে বের করা যাবে না। নবান্ন থেকে শুরু করে মহকুমা স্তর পর্যন্ত প্রতিটি দফতরে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত ক্ষমতার এই পালাবদলের সন্ধিক্ষণে যাতে কোনও জরুরি সরকারি তথ্য বা নথি নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
জেরক্স করতেও লাগবে অনুমতি!
মুখ্যসচিবের জারি করা ওই বিশেষ নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
সরকারি দফতর থেকে কোনও নথি বা ফাইল অন্যত্র সরানো যাবে না।
কোনও নথি আদান-প্রদান করতে হলে যথাযথ নিয়ম ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকের অনুমতি নিতে হবে।
সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কোনও সরকারি কাগজের জেরক্স বা প্রিন্ট আউট বের করতে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে।
কেন এই সতর্কতা?
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের শাসনভার সামলেছে। সরকার পরিবর্তনের এই ক্রান্তিকালে অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব বা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে যাতে আগের সমস্ত রেকর্ড স্বচ্ছভাবে হাতে পায়, সেই কারণেই এই প্রশাসনিক রক্ষাকবচ তৈরি করেছেন মুখ্যসচিব।
ইতিমধ্যেই নবান্নসহ রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলিতে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে। নথিপত্র যাতে সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নেওয়ার জল্পনাও তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। সরকার গঠনের আগেই নবান্নের এই ‘সতর্কতা’ এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।