বাংলায় এবার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার! প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই কোন বড় চমক দেবেন মোদী? জানলে চমকে যাবেন!

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা, তারপরই পশ্চিমবঙ্গে পথ চলা শুরু করতে চলেছে বিজেপি সরকার। বাংলার মসনদ দখলের পর ঠিক কোন লক্ষ্য নিয়ে এগোবে নতুন সরকার, সোমবার দিল্লি থেকে তার স্পষ্ট ব্লু-প্রিন্ট বা রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তরুণদের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে মহিলাদের নিরাপত্তা— প্রতিটি বিষয়েই দিলেন অভয়বাণী।
বাঙালি সাজে মোদীর বার্তা: ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’
এদিন সন্ধ্যায় দিল্লির বিজেপি সদর দফতরে এক বিশেষ মেজাজে ধরা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরনে ধুতি-পাঞ্জাবি, একেবারে পুরোদস্তুর বাঙালি সাজে প্রায় ৪৫ মিনিট বক্তৃতা দেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্ন তখনই সফল হবে, যখন পশ্চিমবঙ্গ বিকশিত হবে।” কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাতের চ্যাপ্টার বন্ধ করে এবার রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্র সবরকমভাবে পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই ‘আয়ুষ্মান ভারত’
বাংলার সাধারণ মানুষের জন্য সবথেকে বড় ঘোষণাটি করেন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। মোদী জানান, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হবে। গত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের জেরে বাংলার মানুষ এই ৫ লক্ষ টাকার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার সেই বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে।
নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে বিশেষ জোর
নির্বাচনী প্রচারে মোদী-শাহ জুটি বারবার যে বিষয়গুলি নিয়ে সরব হয়েছিলেন, জয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান:
মহিলা নিরাপত্তা: রাজ্যে নারী সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে নতুন সরকার।
কর্মসংস্থান: বাংলার মেধাবী তরুণ-তরুণীদের জন্য রাজ্যেই কাজের সুযোগ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনুপ্রবেশ রোধ: সীমান্ত সমস্যা ও অনুপ্রবেশ বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, কেন্দ্রের কোনও প্রকল্পই আর বাংলায় আটকে থাকবে না। সোমবারের এই বার্তার পর এখন ৯ মে-র শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের অপেক্ষা করছেন সাধারণ মানুষ।