‘ওরা লাঠি আনলে আমরা শরবত দেব!’ গণনার রাতে অভিষেকের চ্যালেঞ্জের পাল্টা কী ‘মাস্টারপ্ল্যান’ শমীকের?

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মেগা-ফলাফল ঘোষণার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। ইভিএম (EVM) থেকে কার ভাগ্য খুলবে, তা নিয়ে যখন গোটা রাজ্য রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষায়, ঠিক তখনই শাসকদল তৃণমূলকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শমীকবাবু সাফ জানান, তৃণমূলের ‘ভোট লুঠ’-এর চেষ্টা রুখতে এবার সবাইকে একজোট হতে হবে।
‘লাঠির জবাবে ঠান্ডা শরবত’
তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য কিছুটা ব্যাঙ্গাত্মক সুরেই বলেন, “ওরা পতাকার সঙ্গে লাঠি আনুক, আমরা ঠান্ডা শরবত নিয়ে যাব। জোরে ঝটকা লাগবে, কিন্তু খুব আস্তে করে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। বিজেপির দাবি, তৃণমূল গণনাকেন্দ্রের বাইরে গন্ডগোল পাকিয়ে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে, যা রুখতে গেরুয়া শিবির তৈরি।
সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ
শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস ভোট লুঠের অধিকার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত তাদের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আইনি লড়াইয়েও তৃণমূলের পক্ষে কোনও রায় যায়নি। ওরা এখন ছোটখাটো গন্ডগোল করার চেষ্টা করছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ ও আমাদের কর্মীরা একজোট থাকলে কোনও লাভ হবে না।”
কমিশনের অভয়বাণী
রাজনীতির ময়দানে কথার লড়াই চললেও, সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৪ মে-র গণনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ থেকে শুরু করে সুন্দরবনের প্রতিটি কোণায় গণনাকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে।
আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে গণনার মহাযুদ্ধ। একদিকে বিজেপির আত্মবিশ্বাস আর অন্যদিকে তৃণমূলের জয়ের দাবি— কার হিসেবে শেষ পর্যন্ত মিলবে? প্রতিটি আসনের লাইভ আপডেট এবং ব্রেকিং খবরের জন্য চোখ রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এর পর্দায়।