বাথরুম পেলেও সিট ছাড়া মানা! ৪ মে-র মহাযুদ্ধের আগে কাউন্টিং এজেন্টদের ‘মিলিটারি ট্রেনিং’ দিলেন মমতা!

৪ মে বাংলার মসনদ কার দখলে যাবে, তা নিয়ে যখন দেশজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দলের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে কার্যত ‘মিলিটারি স্টাইলে’ প্রশিক্ষণ দিলেন তাঁরা। বুথফেরত সমীক্ষাকে উড়িয়ে দিয়ে নেত্রীর সাফ কথা— “আমরা ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ফিরছি, তাই ভয় পাবেন না।”
বাথরুম পেলেও সিট ছাড়া বারণ! এদিন কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার পাশাপাশি একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “যতক্ষণ না প্রার্থী জয়ের সার্টিফিকেট হাতে পাচ্ছেন, ততক্ষণ গণনাকেন্দ্র ছাড়া যাবে না। এমনকি বাথরুম পেলেও দলের অন্তত দুজন এজেন্ট উপস্থিত না থাকলে জায়গা ছাড়া চলবে না।” অভিষেকের মতে, এজেন্টদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিজেপি কারচুপি করতে পারে, তাই ‘কষ্ট হলেও’ মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে।
মমতার ‘খাবার ও লোডশেডিং’ দাওয়াই গণনাকেন্দ্রে কর্মীদের সুরক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরামর্শ দিয়েছেন, “কেউ বাইরের খাবার খাবেন না, কেউ কিছু মিশিয়ে দিতে পারে। বাড়ি থেকে হালকা খাবার নিয়ে যাবেন।” সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন নন্দীগ্রামের কথা। মমতা বলেন, “১০ সেকেন্ডের জন্য লোডশেডিং হলেও মেশিন বদলে যেতে পারে। তাই যেখানে মেইন সুইচ বা ট্রান্সফর্মার, সেখানেও তৃণমূল কর্মীদের পাহারায় থাকতে হবে।”
ইভিএম-এ ৭০% চার্জ মানেই কারচুপি? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন এক নতুন ‘থিওরি’ সামনে এনেছেন। তিনি এজেন্টদের সতর্ক করে বলেন, “মেশিন টেবিলে আসার পর ব্যাটারি পার্সেন্টেজ চেক করবেন। যদি দেখেন চার্জ ৭০ শতাংশ বা তার বেশি, তবে বুঝবেন মেশিন নতুন বা কারচুপি হয়েছে। কারণ সারাদিন ভোটের পর চার্জ ৫০ শতাংশের বেশি থাকার কথা নয়। এমনটা দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি তুলবেন।”
মহিলা এজেন্ট ও ‘ডান্ডা-ঝান্ডা’ কৌশল কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CRPF) মোকাবিলা করতে বিশেষ কৌশল বাতলেছেন অভিষেক। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিটি টেবিলে যেন মহিলা এজেন্টদের রাখা হয়, যাতে সিআরপিএফ গায়ের জোরে তাঁদের সরাতে না পারে। পাশাপাশি, কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর চরম বার্তা— “ওরা ডান্ডা মারলে আপনারাও ডান্ডা আর ঝান্ডা দুটোই সাথে রাখবেন।”
পুনর্গণনার হুঁশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, যদি দেখা যায় কোনো আসনে বিজেপি ২০০-৩০০ ভোটে জিতে যাচ্ছে, তবে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই নেই। সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার বা ‘রি-কাউন্টিং’-এর আবেদন জানাতে হবে।
সোমবারের ফলাফল ঘোষণার আগে তৃণমূলের এই ‘ডু অর ডাই’ রণকৌশল দেখে স্পষ্ট যে, গণনাকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে এবার এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ জোড়াফুল শিবির। এখন দেখার, এই হাই-ভোল্টেজ নির্দেশের পর সোমবার বাংলার ভোট-মঞ্চে কী ঘটে।