ভোট-বাক্সে মুসলিম সুনামি! ১২৫ আসনে ফয়সালা করবে সংখ্যালঘুরাই? কাঁপছে সব শিবিরের ঘর!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধে শেষ হাসি কে হাসবে? নবান্নের চাবি কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই থাকবে, নাকি পদ্ম-শিবির ঘটাবে ক্ষমতার পটপরিবর্তন? এই সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে রাজ্যের নির্ণায়ক ‘মুসলিম ভোট ব্যাংক’-এর অন্দরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় এক্স-ফ্যাক্টর হতে চলেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটদান পদ্ধতি।
১২৫ আসনেই কি ভাগ্যবিধাতা মুসলিমরা? পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রায় ১২০ থেকে ১২৫টি আসনে মুসলিম ভোটাররা যেকোনো দলের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখেন। পরিসংখ্যান বলছে, এর মধ্যে অন্তত ৪৬টি আসনে মুসলিম জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি। ফলে এই বিশাল ভোটব্যাংক যেদিকে ঝুঁকবে, সেই দলের পক্ষেই পাল্লা ভারী হবে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ: অস্তিত্বের লড়াই উৎস অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের জেরে লক্ষ লক্ষ মুসলিম ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর আগে দেখা যেত মুসলিম ভোট তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেসের মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। নিজেদের নাগরিকত্ব ও অধিকার সুরক্ষিত রাখতে মুসলিম ভোটাররা একে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে দেখছেন। আর এই আতঙ্কই মুসলিম ভোটকে ‘এককাট্টা’ হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তৃণমূলের পাল্লা কি ভারী? বিজেপিকে রুখতে এবং এনআরসি-সিএএ (NRC-CAA) আতঙ্কে মুসলিম ভোটের একটি বড় অংশ এবার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলোতে যেখানে নাম বাদ পড়ার হার বেশি, সেখানে ভোটাররা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তৃণমূল নেত্রীও এই প্রক্রিয়াকে বিজেপির “ষড়যন্ত্র” হিসেবে তুলে ধরে সংখ্যালঘু সমর্থনকে সুসংহত করতে সফল হচ্ছেন।
বিজেপির অঙ্ক ও ফাটল ধরার চেষ্টা অন্যদিকে, বিজেপির কৌশল হলো হিন্দু ভোট ব্যাংককে সংহত করা এবং মুসলিম ভোটে বিভাজন ঘটানো। রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি আইএসএফ (ISF) বা হুমায়ুন কবিরের মতো ছোট দলগুলো মুসলিম ভোটে ফাটল ধরাতে পারে, তবে হিন্দু ভোটের মেরুকরণ ঘটিয়ে বিজেপি অনেক আসনে সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারবে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুতে বিজেপি নিজেদের মূল ভোট ব্যাংককে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে মুসলিমরা যদি পুরোপুরি তৃণমূলের পিছনে দাঁড়ায়, তবে বিজেপির পক্ষে বাংলার মসনদ দখল করা পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ফলাফল কী হতে পারে? সামগ্রিকভাবে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ইস্যুটি মুসলিম ভোটারদের রাজনৈতিকভাবে আরও সচেতন এবং একমুখী করে তুলেছে। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক ফায়দা তৃণমূল কংগ্রেসের পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, কারণ মুসলিমরা নিরাপত্তার স্বার্থে এবার ভোট ভাগ না করার কৌশল নিতে পারে। ২০২৬-এর এই সমীকরণই বলে দেবে বাংলার তখত-এ-তাউস শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাবে।