‘সার্টিফিকেট না নিয়ে বেরোবেন না’, ৪ মে-র মহাযুদ্ধের আগে কাউন্টিং এজেন্টদের ‘মিলিটারি ট্রেনিং’ দিলেন অভিষেক!

বাংলার মসনদ কার দখলে যাবে, তা নিয়ে যখন দেশজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে শনিবার দলের কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে কার্যত ‘মিলিটারি স্টাইলে’ প্রশিক্ষণ দিলেন তিনি। মমতার ২০০ পারের দাবির মাঝেই অভিষেক শুনিয়ে দিলেন আরও বড় পরিসংখ্যান— তৃণমূল এবার ২১৫-র বেশি আসনে জিতে ক্ষমতায় ফিরছে।

ইভিএম-এ ৭০% চার্জ মানেই কি কারচুপি? এদিন বৈঠকে তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য এক নতুন এবং ‘বিস্ফোরক’ গাইডলাইন সামনে এনেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানান, কাউন্টিং টেবিলে ইভিএম (EVM) আসার পর প্রথমেই নজর দিতে হবে তার ব্যাটারি পার্সেন্টেজের ওপর। অভিষেকের দাবি, “যদি দেখেন কোনো ইভিএম-এ ৭০ শতাংশ বা তার বেশি চার্জ রয়েছে, তবে বুঝবেন ওই মেশিন নতুন বা কোনো কারচুপি হয়েছে। কারণ সারাদিন ভোটের পর চার্জ ৫০ শতাংশের বেশি থাকার কথা নয়।” এমন সন্দেহজনক কিছু দেখলেই তৎক্ষণাৎ ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নির্দেশ ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই গণনাকেন্দ্র ছাড়া চলবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর নির্দেশ:

  • ভোর ৫টায় উপস্থিতি: কোনোভাবেই দেরি করা চলবে না। সবার আগে পৌঁছে সামনের সারিতে জায়গা দখল করতে হবে।

  • সার্টিফিকেটই শেষ কথা: জয় নিশ্চিত হওয়ার পর রিটার্নিং অফিসারের থেকে সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া যাবে না।

  • খাবার ও পানীয়: কারও দেওয়া খাবার বা জল খাওয়া যাবে না। বাড়ি থেকে শুকনো খাবার নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা ও অভিষেক দুজনেই।

পুনর্গণনার হুঁশিয়ারি বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, যদি দেখা যায় কোনো আসনে বিজেপি মাত্র ২০০-৩০০ ভোটে জিতে যাচ্ছে, তবে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই নেই। সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার বা ‘রি-কাউন্টিং’-এর আবেদন জানাতে হবে। অভিষেকও যোগ করেন, ৪ মে পর্যন্ত সমস্ত ধমকানি-চমকানি সহ্য করে কেবল জয়ের লক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে কর্মীদের।

বুথফেরত সমীক্ষা আসলে ‘শেয়ার বাজারের খেলা’ বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “এসব সমীক্ষা আসলে শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা রাখতে করা হয়। ২০২১ এবং ২০২৪ সালেও এসব মেলেনি, এবারও মিলবে না।” তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, ২০০-র বেশি আসন নিয়ে নবান্নে তৃণমূলই বসছে।

সোমবার ইভিএম বক্স খোলার আগে তৃণমূলের এই ‘ডু অর ডাই’ রণকৌশল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন দেখার, সোমবার এই ‘৭১ শতাংশ চার্জ’ তত্ত্ব নিয়ে গণনাকেন্দ্রের ভেতরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কতটা উত্তাপ ছড়ায়।