বিজেপি না কি তৃণমূল— বড়বাজারের গদিতে কার হাওয়া? ভোটের ফল নিয়ে কী ইঙ্গিত দিচ্ছে খাস কলকাতা?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশে বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। কিন্তু তার আগেই বাংলার ‘আসল নাড়ি’ অর্থাৎ কলকাতার বড়বাজারে শুরু হয়ে গিয়েছে হুলুস্থুল। ইভিএম খোলার আগেই কি বড়বাজার চিনে নিয়েছে বিজয়ীকে? আবির বিক্রির ধুম আর সাট্টা বাজারের গোপন সমীকরণ কিন্তু সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আবিরের লড়াইয়ে কে এগিয়ে? বড়বাজারের অলিগলিতে এখন শুধু রঙের মেলা। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় আবির বিক্রির অর্ডার আকাশ ছুঁয়েছে। তবে কৌতূহল জাগাচ্ছে রঙের পছন্দ। গেরুয়া আবিরের চাহিদা যেখানে তুঙ্গে, ঠিক তার পাশেই পাল্লা দিচ্ছে সবুজ আবিরও। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, “আমরা কোনো রিস্ক নিচ্ছি না, দুই রঙেরই স্টক রাখা হয়েছে। তবে কোনো এক বিশেষ রঙের অর্ডার এবার গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ!”
সাট্টা বাজারের ‘গোপন’ সমীকরণ: ফল প্রকাশের আগে বড়বাজারের সাট্টা বাজার বা ফাটকা বাজারের দিকে নজর থাকে গোটা দেশের। সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে বাংলার মসনদ নিয়ে চলছে কোটি কোটি টাকার বাজি। সাট্টা বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, লড়াই এবার এক চুলও জমি ছাড়ার নয়। বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোলের রেশ ধরে বড়বাজারের বড় বড় ‘খেলাড়ি’রা নির্দিষ্ট কিছু আসনের ওপর বাজি ধরছেন। তবে সেখানে কোনো নির্দিষ্ট দল নয়, বরং হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ওপর বেশি বিনিয়োগ হচ্ছে।
বাংলার ভোটের ফল নিয়ে কী পূর্বাভাস? বড়বাজারের ব্যবসায়িক মহলের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলে, এই অঞ্চলের ব্যবসার হাওয়া যেদিকে ঘোরে, রাজ্যের রাজনীতিতেও অনেক সময় সেই ছায়া পড়ে। এবারের এক্সিট পোলগুলি যেখানে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে কাঁটায় কাঁটায় টক্করের কথা বলছে, বড়বাজারের ফাটকা বাজারের দরও বলছে একই কথা। তবে ৪ মে-র সকালেই স্পষ্ট হবে, গলি থেকে রাজপথ— কোন রঙের আবিরে ঢাকা পড়বে।
নিরাপত্তায় কড়া পুলিশ: আবির বিক্রি বা সাট্টা বাজারের এই মাতামাতি যাতে কোনোভাবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে, তার জন্য বড়বাজারের বিভিন্ন ক্রসিংয়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। কোনো ধরণের বেআইনি বাজি ধরা বা অবৈধ কারবার রুখতে সাদা পোশাকের পুলিশও নজরদারি চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ৪ মে-র আগে বড়বাজার এখন উত্তেজনার বারুদ। উত্তর মিলবে সোমবার সকালেই— বাংলার সিংহাসন কার, আর কার আবিরে লাল হবে তিলোত্তমা।