টেবিল থেকে একচুল নড়লেই বিপদ! পর্যবেক্ষকদের জন্য কমিশনের ১০ দফার কড়া গাইডলাইন ফাঁস

৪ মে অর্থাৎ মঙ্গলবার রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণ। আর সেই মহা-গণনার দিন যাতে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম দানা বাঁধতে না পারে, তার জন্য এবার কোমর বেঁধে নামল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোট গণনার চূড়ান্ত লগ্ন নিয়ে পর্যবেক্ষক বা অবজ়ার্ভারদের জন্য জারি করা হয়েছে নজিরবিহীন কড়া নির্দেশিকা।
কমিশনের কড়া নজরে কাউন্টিং সেন্টার: নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গণনার প্রতি পদে পর্যবেক্ষকদের ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করতে হবে। বিশেষ করে কোনো রাউন্ড শেষে ফলাফল ঘোষণার আগে সিগনেচার শিট এবং ইভিএম-এর পরিসংখ্যান মিলিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক। কাউন্টিং টেবিলের ওপর কড়া নজরদারি রাখার পাশাপাশি, ইভিএম আসা এবং যাওয়ার প্রতিটি ধাপ ভিডিওগ্রাফি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবেদনশীল এলাকায় ‘ত্রিস্তরীয়’ নিরাপত্তা: রাজ্যের যে সমস্ত এলাকাকে ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’ বা ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে নিরাপত্তার বেষ্টনী আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
-
প্রতিটি গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি থাকবে।
-
সাধারণ পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে মাইক্রো-অবজ়ার্ভার।
-
গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ সরাসরি দিল্লি ও রাজ্যের কন্ট্রোল রুম থেকে তদারকি করা হবে।
কেন এই অতি-সতর্কতা? ভোট মিটতেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্ট্রংরুম বিতর্ক এবং ইভিএম বদলের অভিযোগ তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলো। অশান্তি এড়াতে এবং গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই কমিশন এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো গণনা টেবিলে এজেন্টদের সাথে বিবাদ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষপে করতে এবং প্রয়োজন পড়লে গণনা সাময়িক স্থগিত রেখে সমস্যার সমাধান করতে।
বড় বার্তা রাজনৈতিক দলগুলোকে: কমিশন সাফ জানিয়েছে, গণনা হলের ভেতরে মোবাইল বা কোনো বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। একমাত্র রিটার্নিং অফিসার এবং পর্যবেক্ষকরাই বিশেষ অনুমোদিত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। ৪ মে-র সকালেই চূড়ান্ত সিল খোলা হবে ইভিএম-এর। তার আগে নজরদারিতে বিন্দুমাত্র খামতি বরদাস্ত করা হবে না।
সব মিলিয়ে, ফলাফল প্রকাশের দিন যাতে কোনো যান্ত্রিক বা মানবিক ভুল না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে এখন থেকেই কাউন্টডাউন শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।