আলিপুরদুয়ারের অন্দরে বড় কোনো চমক? চা-শ্রমিক থেকে আদিবাসী ভোট— কোন সমীকরণে ভাগ্য নির্ধারণ হবে বিজেপির?

উত্তরবঙ্গের রাজনীতির রণাঙ্গনে আলিপুরদুয়ার জেলা সবসময়ই এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার পাঁচটি আসনেই ‘গেরুয়া ঝড়’ দেখেছিল বাংলা। কুমারগ্রাম থেকে কালচিনি, ফালাকাটা থেকে মাদারিহাট— সবকটি আসনেই ফুটেছিল পদ্ম। কিন্তু ২০২৬-এর ভোট মিটতেই এখন বড় প্রশ্ন— সেই দুর্গ কি এখনও অটুট? নাকি এবার পরিস্থিতি বদলেছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলিপুরদুয়ারের ভোটের সমীকরণ মূলত দাঁড়িয়ে থাকে চা-বাগানের শ্রমিক এবং আদিবাসী জনজাতির ওপর। গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই ভোটব্যাঙ্ক একতরফাভাবে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল। তবে এবারের লড়াই কি ততটাই সহজ হবে?
ফিরে দেখা ২০২১: বিজেপির ৫-০ ক্লীন সুইপ গত বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। বিশেষ করে মাদারিহাট ও কালচিনির মতো আসনে বিজেপির জয়ের মার্জিন ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে চা-শ্রমিকদের মজুরি এবং জমির পাট্টা নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয়তা কি জনমতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পেরেছে? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।
এবারের লড়াইয়ের প্রধান ইস্যুসমূহ:
-
চা-বাগানের পাট্টা ও মজুরি: তৃণমূলের দাবি, তারা শ্রমিকদের জমির অধিকার নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে চা-শ্রমিকদের উন্নয়নই মূল চাবিকাঠি।
-
আদিবাসী ও রাজবংশী ভোট: এই জেলার ফল নির্ধারণে আদিবাসী এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-
উন্নয়ন বনাম বঞ্চনা: উত্তরবঙ্গ কি বঞ্চিত? এই পুরোনো বিতর্ককে উসকে দিয়ে যেমন বিজেপি ভোট টানার চেষ্টা করেছে, তেমনই পালটা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও সরকারি পরিষেবার ঢাল সামনে রেখেছে জোড়াফুল শিবির।
অভিজিৎ বোসের গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে, পাঁচটি আসনেই এবার লড়াই হচ্ছে সেয়ানে-সেয়ানে। কোথাও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি এগিয়ে, তো কোথাও তৃণমূলের জনমুখী প্রকল্পের প্রভাব। শেষ হাসি কে হাসবে, তা নিয়ে এখন সরগরম চায়ের দোকান থেকে রাজনৈতিক অন্দরমহল।
আলিপুরদুয়ারের রাজনৈতিক মানচিত্রে কি কোনো বদল আসবে? নাকি বিজেপি তাদের ‘পদ্মবাগান’ সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে? নজর থাকবে আগামী কয়েক দিনের বিশেষ বিশ্লেষণে।