আকাশছোঁয়া তেলের দাম, রক্তবরণ শেয়ার বাজার! ট্রাম্প-ইরান সংঘাতে কি এবার পকেটে আগুন লাগবে মধ্যবিত্তের?

বিশ্ব রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের মেজাজ বুঝিয়ে দিল এক লহমায়। ইরানকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া হুঁশিয়ারির পরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশ বেড়ে গেল। গত চার বছরের মধ্যে তেলের দর এখন সর্বোচ্চ। এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক ধস। মুম্বই থেকে টোকিও, হংকং থেকে সিউল— বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত।

“শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ইরান”: ট্রাম্পের আক্রমণ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে এবার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের পথে হাঁটছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ চলবে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ হাতে রাইফেল নেওয়া একটি কার্টুন পোস্ট করে ট্রাম্প লিখেছেন, “আর নয় ভদ্র সাজার পালা!” তাঁর দাবি, এই অবরোধ বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কার্যকর হচ্ছে এবং ইরান কার্যত শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় রয়েছে।

তেলের বাজারে অগ্নিকাণ্ড: ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর তেলের বাজারে এমন অস্থিরতা আর দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ তেলের দাম এক লাফে ৬.৮ শতাংশ বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI)-এর দামও ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপড়েন না মিটলে ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলিতে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে।

ধসে পড়ল শেয়ার বাজার: যুদ্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে দালান স্ট্রিট থেকে ওয়াল স্ট্রিট। সেনসেক্স ও নিফটির পাশাপাশি পতন হয়েছে জাপানের নিক্কেই ও হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকেও। আমেরিকার ডাও জোন্স সূচক এক ধাক্কায় ৬ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকা সাফ হয়ে গিয়েছে। তবে এর মধ্যেও মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো টেক জায়ান্টদের ভালো আয়ের খবরে কিছুটা আশার আলো দেখছেন কেউ কেউ।

পরিসংখ্যান এক নজরে:

  • ব্রেন্ট ক্রুড: ১২৬ ডলার প্রতি ব্যারেল (৬.৮% বৃদ্ধি)

  • WTI ক্রুড: ১১০.৯ ডলার প্রতি ব্যারেল (৩% বৃদ্ধি)

  • মুম্বই ও টোকিও বাজার: ১.২ শতাংশের বেশি পতন