মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের! ১২০ ডলার ছাড়াল অপরিশোধিত তেল, সপ্তাহের শেষেই শেয়ার বাজারে ভয়াবহ ধস!

ক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটিও। ৩০২ পয়েন্ট কমে নিফটি এখন ২৩,৮৭৫ স্তরে লেনদেন করছে।
কেন এই হঠাৎ বিপর্যয়?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের এই ধসের পিছনে মূলত তিনটি কারণ দায়ী:
-
তেলের আগুনের ছ্যাঁকা: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার অতিক্রম করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের বাজারে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
-
মার্কিন ফেড ও ট্রাম্পের কড়া অবস্থান: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও তাদের কঠোর অবস্থান বিশ্ববাজারে মন্দার কালো মেঘ দেখছে। পাশাপাশি ইরান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
-
লম্বা ছুটির আতঙ্ক: আগামীকাল ১ মে, মহারাষ্ট্র দিবস উপলক্ষে শেয়ার বাজার বন্ধ থাকবে। এরপর শনি ও রবিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। এই তিন দিনের লম্বা ছুটির আগে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছেন না লগ্নিকারীরা। ফলে লাভের কড়ি ঘরে তুলতে সবাই শেয়ার বিক্রির হিড়িক লাগিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ধস কোন সেক্টরে?
আজকের বাজারে সবচেয়ে বড় চাপের মুখে রয়েছে ব্যাংকিং খাত। লেনদেনের শুরু থেকেই এই সেক্টরটি প্রায় ১.৫% দর হারিয়েছে। বড় নামগুলোর মধ্যে আদানি এনার্জি সলিউশনস, জোম্যাটো, পিএফসি এবং আরইসি-র মতো শেয়ারগুলোতে ব্যাপক পতন লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিও শোচনীয়
কেবল ভারত নয়, এশিয়ার অন্যান্য বাজারগুলোতেও লাল সঙ্কেত দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক ০.৯১% এবং টপিক্স ১.৪৮% হ্রাস পেয়েছে। এর আগে ওয়াল স্ট্রিটে ডাও জোন্স টানা পঞ্চম দিনের মতো পতনের মুখ দেখেছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণে বাজার এখনই স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম। লগ্নিকারীদের এই মুহূর্তে হুজুগে পড়ে বড় বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।