কাশ্মীর ভ্রমণে এবার ‘বন্দে ভারত’ ধামাকা! মেঘের ওপর দিয়ে ছুটবে ট্রেন, ৩০ এপ্রিল থেকেই বদলে গেল ভূস্বর্গ সফরের সংজ্ঞা

পর্যটকদের জন্য স্বপ্ন সফল! এবার আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তায় জ্যামে আটকে থাকতে হবে না। ৩০ এপ্রিল থেকেই বদলে যাচ্ছে ভূস্বর্গ ভ্রমণের মানচিত্র। জম্মু ও কাশ্মীরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল নতুন ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ (Vande Bharat Express)। এই ট্রেন চালুর সঙ্গেই পূর্ণতা পেল ভারতের সবথেকে চ্যালেঞ্জিং এবং উচ্চাভিলাষী ‘উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা’ রেল লিঙ্ক প্রজেক্ট।
বিশ্বের উচ্চতম ব্রিজে রোমাঞ্চকর সফর: এই বন্দে ভারত ট্রেনের সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো ‘চেনাব রেল ব্রিজ’। আইফেল টাওয়ারের থেকেও উঁচুতে অবস্থিত এই ব্রিজের ওপর দিয়ে যখন সাদা-নীল বন্দে ভারত ছুটবে, তখন জানলার বাইরে দেখা মিলবে এক স্বর্গীয় অনুভূতির। শুধু তাই নয়, পীর পাঞ্জাল রেঞ্জের দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ পেরিয়ে হিমালয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা।
বৈষ্ণোদেবী থেকে শ্রীনগর—এক সুতোয় গাঁথা: নতুন এই রুটের ফলে তীর্থযাত্রী এবং সাধারণ পর্যটক, উভয়েরই পোয়াবারো। জম্মু তাওয়াই স্টেশন থেকে ছেড়ে এই ট্রেন উধমপুর, বৈষ্ণোদেবী কাটরা, বানিহাল এবং অনন্তনাগ হয়ে সরাসরি পৌঁছে যাবে শ্রীনগর। এমনকি ট্রেনের রুটটি বারামুল্লা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগেও হার মানবে না এই ট্রেন: কাশ্মীরের সবথেকে বড় সমস্যা হলো শীতকালে ভারী তুষারপাত বা বর্ষায় ধস নেমে রাস্তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। কিন্তু বন্দে ভারতের ক্ষেত্রে সেই বাধা আর থাকছে না। রেল সূত্রে খবর, চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও এই ট্রেন পাহাড়ের বুক চিরে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম।
বিমানে ওঠার মতো সুযোগ-সুবিধা: যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই বন্দে ভারতের সমস্ত কোচে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়া অটোমেটিক স্লাইডিং ডোর, জিপিএস ভিত্তিক প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম এবং আপদকালীন যোগাযোগের জন্য ইমার্জেন্সি কমিউনিকেশন সিস্টেমের মতো আধুনিক ব্যবস্থা।
ভ্রমণপিপাসু বাঙালির জন্য এবার কাশ্মীর সফর আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং রাজকীয় হতে চলেছে। এই গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আপনিও কি তৈরি হচ্ছেন বন্দে ভারতে চড়ে পীর পাঞ্জাল পাড়ি দিতে? উত্তর দেবে আপনার ট্রাভেল ব্যাগ!