১০ দিনে এমন কী বদলে গেল? বিনেশ চন্দেলের জামিনে আপত্তিই করল না ইডি! ভোট মিটতেই নয়া জল্পনা

দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক। কয়লা পাচার সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপের মামলায় গ্রেফতার হওয়া আই-প্যাক (I-PAC)-এর অন্যতম ডিরেক্টর বিনেশ চন্দেল অবশেষে মুক্তি পেলেন। আজ, ৩০ এপ্রিল দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত ১০ দিন আগে যে ইডি (ED) বিনেশকে হেফাজতে নিতে মরিয়া ছিল, আজ সেই কেন্দ্রীয় সংস্থাই তাঁর জামিনের আবেদনের কোনও বিরোধিতা করেনি।

তদন্তে ‘সহযোগিতা’ নাকি রণকৌশল বদল?
গত ১৩ এপ্রিল দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বিনেশ চন্দেলকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সময় তদন্তকারীরা দাবি করেছিলেন, বিনেশ অপরাধের প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। কিন্তু আজ শুনানির সময় তদন্তকারী অফিসার আদালতকে জানান যে, বিনেশ চন্দেল বর্তমানে তদন্তে “স্বেচ্ছায় এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে” সহযোগিতা করছেন। ইডি-র এই ইতিবাচক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিনেশের ওপর বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপের আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

জামিনের শর্তাবলী
পাটিয়ালা হাউস কোর্ট বিনেশ চন্দেলের জামিন মঞ্জুর করার সময় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে:

তিনি কোনওভাবেই মামলার প্রমাণের সঙ্গে কারচুপি করতে পারবেন না।

সাক্ষীদের প্রভাবিত করার কোনও চেষ্টা করা যাবে না।

তদন্তের প্রয়োজনে ডাকলে তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে এবং সবরকম তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক উত্তাপ
ভোপালের এনএলআইইউ-এর আইনের স্নাতক বিনেশ চন্দেল আই-প্যাকের ৩৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী সংস্থার এই শীর্ষ কর্তার গ্রেফতারি নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল জাতীয় রাজনীতি। ইডি-র অভিযোগ ছিল, কয়েক কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগ রয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল আদালত তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছিল।

তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারের মূল কারিগরদের একজনকে বাংলার ভোট চলাকালীন এভাবে আটকে রাখা এবং ভোট মিটতেই ইডি-র ‘নরম’ মনোভাবে জামিন পাওয়া— এই গোটা ঘটনাপ্রবাহের পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। আইপ্যাক ডিরেক্টরের এই মুক্তি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানেও এক নতুন মোড় নিয়ে এল।