“নিজের বুথেই ২০০ ভোটে হারবেন মমতা!” ভোট মিটতেই শুভেন্দুর মুখে ২০ হাজারের হুঙ্কার, তোলপাড় বাংলা

২০২৬-এর মেগা লড়াই শেষ। ইভিএম বন্দি হয়ে গিয়েছে প্রার্থীদের ভাগ্য। কিন্তু ফলাফল বেরোনোর আগেই বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে দিলেন ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু সাফ জানালেন, এবার ভবানীপুরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বুথেই হারের মুখ দেখবেন।

“বোরখা পরে ছাপ্পা,” পর্দাফাঁস শুভেন্দুর!
ভোট পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এবার আর আগের মতো ছাপ্পা ভোটের কারচুপি চলেনি। তিনি বলেন, “গোটা দশেক ছাপ্পা মারার চেষ্টা হয়েছিল মাত্র। ৭৭ নম্বর বুথে তো পুরুষরা বোরখা পরে ভোট দিতে এসেছিল! আমি ধরা মাত্রই পালিয়েছে। যেখানেই ছাপ্পা হয়েছে, খবর পেয়ে আমি নিজে গিয়ে ভেস্তে দিয়েছি।” পুলিশের ভূমিকা নিয়েও এবার ইতিবাচক সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। শুভেন্দুর মতে, পুলিশ পর্যবেক্ষকের তৎপরতায় এজেন্টদের বার করে দেওয়ার চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে এবং ২৬৭টি বুথেই বিজেপি শক্ত এজেন্ট দিতে পেরেছে।

ভোটের নতুন সমীকরণ ও বর্ধিষ্ণু পরিবার
শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, এবারের ভোটে ভবানীপুরের চিত্র বদলে গিয়েছে। তিনি বলেন, “আগে মুসলিম বুথে ৯৫ শতাংশ পোল হতো, এবার হিন্দু বুথে ৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। ২০ হাজার গুজরাটি, ১২ হাজার মারওয়াড়ি এবং ৪ হাজার পাঞ্জাবি পরিবার নির্ভয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। এমনকি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ও হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের অভিজাত পরিবারগুলোও এবার গেরুয়া শিবিরকে বেছে নিয়েছে। আমি নিশ্চিত, মমতা এবার নিজের বুথেই ২০০ ভোটে হারবেন।”

মমতাকে ‘জুনিয়র’-এর টিপ্পনী
নির্বাচনী লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি তো মমতার জুনিয়র ছিলাম। এবার উনি আমার সঙ্গে ঘুরে পেরে ওঠেননি, আসলে বয়স হয়েছে তো!” এমনকি অসীম বসুর বাড়িতে দেখা হওয়ার স্মৃতি টেনে তিনি খোঁচা দেন, “অসীমবাবুর বাড়িতে দিদি আড্ডা দিচ্ছিলেন, আমার গাড়ি দেখেই ভিতরে ঢুকে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমি তো সৌজন্য জানি, ওনাকে কিছুই করতাম না। ওনার আচরণই বলে দিচ্ছে উনি বিজেপিকে কতটা ভয় পাচ্ছেন।”

জয়ের ব্যবধান নিয়ে বড় বাজি
ভবানীপুরে জয়ের মার্জিন নিয়ে কোনো লুকোছাপা করেননি শুভেন্দু। তাঁর দাবি, “আমি নিশ্চিত যে অন্তত ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে আমি জিতব এবং মমতা হারবেন। কলকাতা পুলিশের একটা বড় অংশকে ধন্যবাদ, যারা মেরুদণ্ড সোজা রেখে কমিশনের নির্দেশ পালন করেছেন।”

ভোট মিটতেই শুভেন্দুর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং আত্মবিশ্বাস রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, ৪ মে ফলাফল প্রকাশের দিন ভবানীপুরের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসেন—দিদি না কি তাঁর একদা ‘ফেভারিট’ জুনিয়র শুভেন্দু?