“বাংলায় কি মমতার গড় দখল করছে বিজেপি?”-৪ মে-র আগে এক্সিট পোলের ১০টি বিস্ফোরক ইঙ্গিত!

৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে, তবে তার আগেই বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক্সিট পোল বা বুথফেরত সমীক্ষা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোথাও আঞ্চলিক শক্তির দাপট, আবার কোথাও জাতীয় দলগুলোর আধিপত্য— সব মিলিয়ে এক টানটান উত্তেজনার আখ্যান তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির এই নির্বাচনী লড়াই থেকে উঠে আসা ১০টি প্রধান রাজনৈতিক বার্তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:

১. পশ্চিমবঙ্গে লড়াই এখনও সমানে-সমান

বাংলার মসনদ নিয়ে এক্সিট পোলগুলো কার্যত দ্বিধাবিভক্ত। ‘ম্যাট্রিজ’ ও ‘পি-মার্ক’-এর মতো সংস্থাগুলো বিজেপিকে ১৪৮-এর বেশি আসন দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিলেও, ‘পিপলস পালস’ ও ‘জনমত’-এর সমীক্ষায় মমতার তৃণমূলেরই পাল্লা ভারী। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার— লড়াই হবে কাঁটায় কাঁটায়। ‘সাইলেন্ট ভোটার’ বা নিঃশব্দ ভোটই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে নবান্ন কার দখলে থাকবে।

২. তামিলনাড়ুতে ‘থালাপতি’ বিজয়ের ম্যাজিক!

দক্ষিণের এই রাজ্যে সবথেকে বড় চমক হতে চলেছেন অভিনেতা বিজয়। তাঁর দল ‘তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম’ (TVK) প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করতে পারে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার মতে, বিজয় ৯৮ থেকে ১২০টি আসন জিতে দ্রাবিড় রাজনীতির দুই স্তম্ভ ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র ভিত নাড়িয়ে দিতে পারেন।

৩. অসমে বিজেপির হ্যাটট্রিক নিশ্চিত?

উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রায় সব সমীক্ষাই। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বিজেপি ১০০-র কাছাকাছি আসন পেয়ে টানা তৃতীয়বার সরকার গড়তে পারে। অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও গৌরব গগৈ-এর সব চেষ্টা ব্যর্থ করে কংগ্রেস বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

৪. কেরল কি বাম-মুক্ত হতে চলেছে?

সমীক্ষা সত্যি হলে কেরলে ১০ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটতে পারে। ক্ষমতার পালাবদলের ঐতিহ্যে ফিরে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) ক্ষমতায় আসার পথে। এটি সত্য হলে স্বাধীনতার পর এই প্রথম ভারতের কোনও রাজ্যেই বামপন্থীদের সরকার থাকবে না।

৫. পুদুচেরিতে ফের ফুটছে ‘পদ্ম’

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে এনডিএ (NDA) জোট ক্ষমতা ধরে রাখতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ৩০টি আসনের মধ্যে ১৬-২০টি আসন পেয়ে বিজেপি জোট অনায়াসেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে।

৬. বাংলায় ‘এসআইআর’ ফ্যাক্টর

বিজেপির দাবি, ভোটার তালিকায় ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর মাধ্যমে ভুঁয়ো নাম বাদ যাওয়ায় তারা সুবিধা পাবে। এছাড়া ধর্মীয় মেরুকরণ ও দুর্নীতির ইস্যু মমতার ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্কে’ কতটা থাবা বসাতে পারল, তার ওপর নির্ভর করছে পদ্ম শিবিরের জয়।

৭. দক্ষিণে বিজেপির বিস্তার

কেরল ও তামিলনাড়ুতে বিজেপি সরাসরি ক্ষমতায় না এলেও তাদের ভোট শতাংশ ও আসন সংখ্যা বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ভারতে ধীরে ধীরে নিজেদের জমি শক্ত করছে গেরুয়া দল।

৮. কংগ্রেসের জন্য অম্ল-মধুর ফলাফল

কেরলে ১০ বছর পর ক্ষমতায় ফেরার হাতছানি কংগ্রেসের কাছে বড় স্বস্তি। কিন্তু অসম ও বাংলায় তাদের রক্তক্ষরণ অব্যাহত। তামিলনাড়ুতেও ডিএমকে-র ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তাদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে।

৯. নতুন মুখের জয়জয়কার

ভোটাররা এখন পুরনো রাজনীতির বাইরে নতুন বিকল্প খুঁজছেন। তামিলনাড়ুতে বিজয়ের উত্থান তারই প্রমাণ। কর্মসংস্থান ও দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো এখন পরিচিত উত্তর-দক্ষিণ বিভাজনের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

১০. মুসলিম রাজনীতিতে বড় ধাক্কা

আঞ্চলিক মুসলিম দলগুলোর জন্য এই এক্সিট পোল সতর্কবার্তা। বাংলায় আসাদুদ্দিন ওয়েইসি বা হুমায়ুন কবীরদের সরিয়ে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের দিকেই ঝুঁকেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অসমেও বদরুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফ (AIUDF) কোণঠাসা হওয়ার পথে।

৪ মে ইভিএম খোলার পরই স্পষ্ট হবে এই এক্সিট পোল কতটা সঠিক ছিল। তবে আপাতত এই সমীক্ষাগুলো দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিঃদ্রঃ উক্ত ছবিটি AI দ্বারা নির্মিত