ফলতায় তুলকালাম! ইভিএম কারচুপির অভিযোগে চরম উত্তেজনা, গোটা বিধানসভাতেই কি ফের ভোট?

রাজ্যে ভোট উৎসবের মাঝেই উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিল নির্বাচন কমিশন। ভোট কারচুপি এবং ইভিএম (EVM) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ালো ফলতার একাধিক এলাকায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কড়া পদক্ষেপের পথে কমিশন। খোদ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে পুরো বিধানসভাতেই পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হতে পারে।

রিপোর্ট তলব কমিশনের

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৫২ এবং ২৩৫ নম্বর বুথ-সহ একাধিক জায়গায় ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের দপ্তরে। বিশেষ করে ইভিএম কারচুপি এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট বুথগুলো থেকে দ্রুত বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন সিইও। মূলত কোন পরিস্থিতিতে ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে এবং এর পিছনে কাদের হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিইও-র নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানান, “ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার আপস করা হবে না। অনিয়ম প্রমাণিত হলে নির্দিষ্ট বুথ তো বটেই, প্রয়োজনে গোটা ফলতা বিধানসভা জুড়েই ফের ভোট নেওয়া হতে পারে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কমিশন যে কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না, এই হুঁশিয়ারি তারই প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উত্তেজনা তুঙ্গে ফলতায়

সকাল থেকেই ফলতার বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে ছিল। বুথের সামনে জমায়েত থেকে শুরু করে ইভিএম নিয়ে কারচুপির অভিযোগে ভোটাররা সরব হন। ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, বেশ কিছু বুথকে ‘স্পেশাল নজরদারি’র আওতায় রাখা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ কী?

কমিশনের এই কড়া অবস্থানের পর প্রশ্ন উঠছে, ফলতায় কি সত্যিই পুনর্নির্বাচন (Re-poll) হতে চলেছে? মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ মনোভাব বাকি কেন্দ্রগুলোর জন্যও বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।