ভোটের লাইনে জনস্রোত! ১টা বাজতেই ৬০ শতাংশের বেশি ভোটদান, দিদি না মোদী— কার দিকে পাল্লা ভারী?

বঙ্গে দ্বিতীয় দফার মহাযুদ্ধে সকাল থেকেই বুথে বুথে লম্বা লাইন। কড়া রোদ আর বিক্ষিপ্ত উত্তেজনাকে উপেক্ষা করেই গণতন্ত্রের উৎসবে মেতেছে সাধারণ মানুষ। দুপুর ১টা পর্যন্ত পাওয়া সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে গড় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৬১.১১ শতাংশ। মাত্র ৬ ঘণ্টায় এই বিপুল পরিমাণ ভোটদান দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার রেকর্ড গড়তে পারে বাংলা।
সবচেয়ে এগিয়ে কোন জেলা?
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটদানের দৌড়ে সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছে পূর্ব বর্ধমান। সেখানে ভোট পড়েছে ৬৬.৮০ শতাংশ। অন্যদিকে, বরাবরের মতো এবারও ভোটদানে শহরের তুলনায় গ্রাম বাংলার তেজ অনেক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এক নজরে জেলাভিত্তিক ভোটের হার (দুপুর ১টা পর্যন্ত):
| জেলা / এলাকা | ভোটদানের হার (%) |
| পূর্ব বর্ধমান | ৬৬.৮০% (শীর্ষে) |
| হুগলি | ৬৪.৫৭% |
| নদিয়া | ৬১.৪১% |
| হাওড়া | ৬০.৬৮% |
| কলকাতা উত্তর | ৬০.১৮% |
| উত্তর ২৪ পরগনা | ৫৯.২০% |
| দক্ষিণ ২৪ পরগনা | ৫৮.৫৮% |
| দক্ষিণ কলকাতা | ৫৭.৭৩% (সর্বনিম্ন) |
শহর বনাম গ্রাম: কোথায় পিছিয়ে কলকাতা?
রিপোর্ট বলছে, কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ— দুই কেন্দ্রেই ভোটদানের গতি তুলনামূলক মন্থর। দক্ষিণ কলকাতায় দুপুর ১টা পর্যন্ত সবচেয়ে কম, অর্থাৎ ৫৭.৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। শহুরে ব্যস্ততা এবং গরমকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিপরীতে, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংবেদনশীল বুথগুলোতেও মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে বেরিয়েছেন।
বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী
ভোটের লাইনে কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা দেখা গিয়েছে। তবে প্রশাসন সূত্রে খবর, বড় কোনো ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: দুপুর ১টার মধ্যে ৬০ শতাংশের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী। সাধারণত উচ্চহারে ভোটদানকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বা বর্তমান সরকারের পক্ষে প্রবল সমর্থনের লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। এই বিপুল জনসমর্থন শেষ পর্যন্ত কার ঝুলিতে যায়, সেটাই এখন দেখার।