ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে গুনতে হচ্ছে জরিমানা! উল্টো লোন নিলেই মিলছে টাকা? অবিশ্বাস্য এই দেশগুলির কাণ্ড দেখুন!

সাধারণ মানুষের ধারণা ব্যাঙ্কে টাকা জমালে মাস গেলে সুদ পাওয়া যায়, আর লোন নিলে দিতে হয় চড়া সুদ। কিন্তু ২০২৬ সালের গ্লোবাল ইকোনমিতে এই ধারণা এখন অতীত। ডেনমার্ক, জাপান বা সুইৎজারল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলোতে ছবিটা ঠিক উল্টো। সেখানে ব্যাঙ্কে আপনার জমানো কষ্টের টাকা নিরাপদ রাখতে উল্টে ব্যাঙ্ককে দিতে হচ্ছে ‘ভাড়া’ বা ফি। অন্যদিকে, বাড়ি তৈরির জন্য লোন নিলেও সুদের হার প্রায় শূন্য!

কেন এমন অদ্ভুত নীতি? যখন কোনো দেশের অর্থনীতির চাকা থমকে যায় এবং মানুষ খরচ করা কমিয়ে দেয়, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বাজারে টাকার জোগান বাড়াতে এই ‘নেগেটিভ ইন্টারেস্ট রেট’ বা ঋণাত্মক সুদের নীতি গ্রহণ করে।

  • খরচ বাড়ানোই লক্ষ্য: ব্যাঙ্ক চায় মানুষ টাকা জমিয়ে না রেখে বাজারে খরচ করুক অথবা ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করুক।

  • লোন নিতে উৎসাহ: সুদের হার শূন্য বা তার নিচে নামিয়ে দেওয়া হয় যাতে মানুষ অনায়াসে লোন নিয়ে বাড়ি কেনে বা খরচ করে, ফলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ে।

বাস্তব চিত্রটা কী? ডেনমার্কে ইতিমধ্যেই অনেক গ্রাহক শূন্য শতাংশ সুদে হোম লোন পাচ্ছেন। আবার সুইৎজারল্যান্ডে বড় অঙ্কের সেভিংস থাকলেই ব্যাঙ্ক উল্টে চার্জ কাটছে। জার্মানির মতো দেশেও সরকারি বন্ডে সুদের হার তলানিতে। তবে সাধারণ মানুষ তবুও টাকা জমা রাখছেন শুধুমাত্র ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে।

সাধারণ মানুষের লাভ না ক্ষতি? শুনতে দারুণ লাগলেও এর কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। ব্যাঙ্কগুলো অনেক সময় সরাসরি সুদ না কাটলেও নানা ‘হিডেন চার্জ’ বা গোপন খরচ বাড়িয়ে দেয়। ফলে আমজনতার পকেটে টান পড়ে।

অর্থনীতিবিদদের মত: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো চিরস্থায়ী ব্যবস্থা নয়। যখনই দেশের অর্থনীতি আবার সচল হবে এবং মানুষের মধ্যে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়বে, তখনই ব্যাঙ্কগুলো আবার পুরনো সুদের হারে ফিরে যাবে। আপাতত ইউরোপের এই অদ্ভুত ব্যাঙ্কিং মডেল দেখে অবাক হচ্ছে সারা বিশ্ব।