বিশ্বের তেল বাজারে মহাপ্রলয়! ওপেকের হাত ছাড়ল দুবাই, যুদ্ধের মাঝেই কি বদলে যাচ্ছে মানচিত্র?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামার মাঝেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় কম্পন। ওপেকের (OPEC) দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী হলেও, এবার সেই সম্পর্ক ছিন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। আগামী ১ মে থেকেই কার্যকর হতে চলেছে এই বিচ্ছেদ। ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে আমিরাতের এই ‘একলা চলো’ নীতি বিশ্ব তেল বাজারে বড় ধরনের ওলটপালট ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন এই হঠাৎ প্রস্থান? সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম (WAM) জানিয়েছে, দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণ এবং জ্বালানি কৌশলে পরিবর্তন আনতেই এই পদক্ষেপ। বর্তমানে ওপেক-এর সদস্য হিসেবে নির্দিষ্ট কোটার বেশি তেল উৎপাদন করতে পারছে না তারা। কিন্তু দুবাই এখন নিজের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে বিশ্ব বাজারে নিজেদের দাপট আরও বাড়াতে চায়।

সৌদির সাথে সংঘাতের আবহ? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল অর্থনীতি নয়, বরং সৌদি আরবের সাথে ক্রমবর্ধমান মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও দায়ী। তেলের দাম নির্ধারণ এবং উৎপাদন কৌশল নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই রিয়াদের সাথে মতপার্থক্য বাড়ছিল দুবাইয়ের। ওপেক ছেড়ে বেরিয়ে আসা আসলে সৌদি আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ: বর্তমানে ইরান এবং ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা চলছে, তাতে প্রতিটি দেশই নিজের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। সংযুক্ত আরব আমিরাত চাইছে জোটের বাধ্যবাধকতা কাটিয়ে উঠে স্বাধীনভাবে বিদেশের সাথে তেলের লেনদেন করতে।

ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে? আমিরশাহি আশ্বস্ত করেছে যে তারা দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে তেলের বাজারে হঠাৎ কোনো অস্থিরতা তৈরি করবে না। উৎপাদন বাড়ানো হবে ধাপে ধাপে। তবে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের নজর এখন দুবাইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যদি তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ে, তবে পেট্রোল-ডিজেলের দামে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।